অসমের বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর মানুষ সারা বছর ধরে নানা আনন্দমুখর উৎসব পালন করেন। চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ের নানা রঙের উৎসব পদ্যটিতে বৈশাখ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত পালিত সেই সব উৎসবের রঙিন ছবি ফুটে উঠেছে। আমরা খুব সহজ ভাষায় নানা রঙের উৎসব কবিতার Question Answer গুলো দেওয়ার চেষ্টা করবো।
নানা রঙের উৎসব কবিতার মূলভাব
চৈত্র মাস শেষ হয়ে বৈশাখ মাসের আগমনের সাথে সাথে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার পালা শুরু হয়। এই সময়ে গাজন ও চড়ক পূজায় ঢাক-ঢোল বাজে এবং রঙিন মেলা বসে। বছরের শুরুতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের হালখাতা ও গণেশ পূজার ধুম পড়ে। ঠিক তেমনি অসমের প্রকৃতি ও জনজীবনে রঙালি বিহুর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর আষাঢ় মাসে খোলা মাঠে রথযাত্রা এবং শ্রাবণ-ভাদ্রের শেষে ঝুলনের চাঁদ পেরিয়ে শরৎকাল আসে। শরতের ভোরে শিউলি ফুলের গন্ধ ও মহালয়ার সুরের মধ্য দিয়ে আনন্দে ভরা দুর্গাপূজার দিনগুলো শুরু হয়।
হেমন্তের অগ্রহায়ণ মাসে মাঠ ভরা সোনালি ধান কাটা হয়। শীত পেরিয়ে বসন্তে যখন গাছের পাতা ঝরে যায়, তখন রঙিন আবির খেলায় মেতে ওঠে দোল উৎসব।
এইভাবে সারা বছর নানা উৎসব শেষে আবার চড়ক মেলার ঢাক এবং দূর থেকে ভেসে আসা বিহুর পেঁপার সুরে নতুন দিনের ডাক শোনা যায়।
চতুর্থ শ্রেণি বাংলা নানা রঙের উৎসব প্রশ্ন উত্তর
১। ঢোলটিতে লেখা শব্দগুলোর অর্থ নীচে দেওয়া আছে। অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে শব্দগুলো লেখো
- অনুষ্ঠানাদির জন্য নির্দিষ্ট সময়: মরশুম।
- মোষের শিং দ্বারা নির্মিত এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র: পেঁপা।
- আবাহন — বরণ।
- সামাজিক বা ধর্মীয় উৎসব: পরব।
- শেফালিকা ফুল: শিউলি।
- হেমন্ত ঋতুর অন্তিম মাস: অগ্রহায়ণ।
২। উত্তর বলো এবং লেখো
(ক) রথযাত্রা কোন্ মাসে অনুষ্ঠিত হয়? উত্তর: রথযাত্রা আষাঢ় মাসে অনুষ্ঠিত হয়।
(খ) কোন্ তিথিতে মহালয়ার সুর বাজে? উত্তর: শরৎকালের শারদ-প্রভাতে পিতৃপক্ষের শেষ এবং দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে অমাবস্যা তিথিতে মহালয়ার সুর বাজে।
(গ) আবির খেলা উৎসবের নাম কী? উত্তর: আবির খেলা উৎসবের নাম হলো দোল উৎসব।
(ঘ) রঙালি বিহুর আরেকটি নাম কী? উত্তর: রঙালি বিহুর আরেকটি নাম হলো বোহাগ বিহু বা বৈশাখী বিহু।
৩। বাক্যরচনা করো
- বর্ষবরণ: পয়লা বৈশাখে গান ও নাচের মাধ্যমে নতুন বছরের বর্ষবরণ করা হয়।
- হালখাতা: বছরের প্রথম দিনে দোকানে দোকানে মিষ্টিমুখ ও হালখাতা উৎসব পালিত হয়।
- রথযাত্রা: আষাঢ় মাসে রথযাত্রা উপলক্ষে আমাদের গ্রামের মাঠে বড়ো মেলা বসে।
- মহালয়া: মহালয়ার ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমরা রেডিওতে চণ্ডীপাঠ শুনি।
- আবির: দোল পূর্ণিমার দিন সবাই মিলে রঙিন আবির খেলায় মেতে ওঠে।
- পেঁপা: বিহু নাচের সময় ঢোলের সাথে পেঁপার সুর শুনতে খুব মিষ্টি লাগে।
ভাষা-অধ্যয়ন ও ব্যাকরণের কাজ
- মাসের নাম: চৈত্র, বৈশাখ, আষাঢ়, অগ্রহায়ণ এবং পৌষ।
- উৎসবের নাম: বর্ষবরণ, গাজন, চড়ক, হালখাতা, গণেশ পূজা, রঙালি বিহু, রথযাত্রা, ঝুলন, মহালয়া, দুর্গাপূজা, পৌষ পরব এবং দোল উৎসব।
- ঋতুর নাম: শরৎ।
- বাদ্যযন্ত্রের নাম: ঢাক, ঢোল এবং পেঁপা।
- রূপ + আলি = রুপালি।
- পুব + আলি = পুবালি।
- বর্ণ + আলি = বর্ণালি।
- সোনা + আলি = সোনালি।
- ঘটক + আলি = ঘটকালi।
- মিতা + আলি = মিতালি।
- দীপালি: দীপ + আলি।
- চৈতালি: চৈত বা চৈত্র + আলি।
- স্বর্ণালি: স্বর্ণ + আলি।
- খেয়ালি: খেয়াল + আলি।
- ঢাক বাজায় যে: ঢাকি।
- পৌষ সংক্রান্তির ভোরে জ্বালানোর জন্য তৈরি ঘর: মেড়ামেড়ি।
- চড়ক পূজা: গাজন।
- আবির খেলার উৎসব: দোল।
জ্ঞান-সম্প্রসারণ ও প্রকল্পের কাজ
৭। কীর্তনের সঙ্গে বাজানো হয় এমন কয়েকটি বাদ্যযন্ত্রের নাম লেখো এবং এর মধ্যে থেকে যে কোনো একটির ছবি আঁকো। উত্তর: কীর্তন গানের সঙ্গে বাজানো হয় এমন কয়েকটি প্রধান বাদ্যযন্ত্র হলো - খোল বা শ্রীখোল, করতাল, মন্দিরা এবং হারমোনিয়াম।
তোমরা তোমাদের অঙ্কন খাতায় পেনসিল ও রঙের সাহায্যে একটি খোল অথবা একজোড়া করতালের ছবি সুন্দর করে এঁকে নেবে। নিচে খোল এর ছবি একটি দেওয়া হয়েছে -
৮। শরৎকালে শারদীয় উৎসব পালন করা হয়। ওই উৎসবের পাশাপাশি আর কী কী উৎসব পালন কর এবং কীভাবে কর, লেখো। উত্তর: শরৎকালে শারদীয় দুর্গাপূজার পাশাপাশি লক্ষ্মীপূজা এবং কার্তিক মাসের শুরুতে কালীপূজা উৎসব ও ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পালন করা হয়।
লক্ষ্মীপূজার দিন বাড়ির উঠোনে ও ঘরে চালের গুঁড়োর আলপনা দেওয়া হয় এবং ফল-মিষ্টি দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। আর কালীপূজা উৎসবে সন্ধ্যাবেলা বাড়ির চারপাশে সারি সারি মাটির প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়。
৯। দীপান্বিতা উৎসবে প্রদীপে বাতি জ্বালানো হয়। তোমরা মাটি বা শক্ত কাগজ দিয়ে একটি প্রদীপ তৈরি করো। উত্তর: কিছুটা নরম এঁটেল মাটি জলের সাহায্যে ভালো করে মেখে গোল বলের মতো বানিয়ে নিতে হয়। এরপর আঙুল দিয়ে মাঝখানটা একটু গর্ত করে সামনের দিকটি সামান্য ছুঁচালো করে দিলেই সুন্দর মাটির প্রদীপ তৈরি হয়ে যায়। রোদের মধ্যে শুকিয়ে তাতে পছন্দমতো রং করে নাও।
- মাটির প্রদীপ ও ধূপকাঠি
- শিউলি ও পদ্ম ফুল
- বেলপাতা ও দুর্বা ঘাস
- চন্দন, সিঁদুর ও নতুন ঘট
- ফলমূল ও মিষ্টি।
নানা রঙের উৎসব পাঠের অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর
১। অসমের বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উৎসবের নাম লেখো। উত্তর: অসমের বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উৎসব হলো- বিহু, দুর্গাপূজা, চড়ক, দোল, ছট পূজা এবং বৈশাগু।
২। অগ্রহায়ণ মাসে প্রকৃতিতে কী দেখা যায় এবং এর ফলে ঘরে ঘরে কীসের ঘ্রাণ আসে? উত্তর: অগ্রহায়ণ মাসে মিষ্টি রোদে মাঠের পর মাঠ পাকা সোনালি ধানে ভরে ওঠে। সেই নতুন ধানের অন্নে ঘরে ঘরে পৌষ পরবের ঘ্রাণ চলে আসে।
৩। অসমিয়া ভাষায় 'রং' শব্দের অর্থ কী এবং 'রঙালি' শব্দটি কীভাবে তৈরি হয়েছে? উত্তর: অসমিয়া ভাষায় 'রং' শব্দের অর্থ হলো আনন্দ। এই 'রং' শব্দমূলের সঙ্গে 'আলি' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'রঙালি' শব্দটি তৈরি হয়েছে।
৪। আমাদের সংস্কৃতির পরিচয় কোন কোন বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পায়? উত্তর: আমাদের বিভিন্ন উৎসব, সাজগোজ, গীত-বাদ্য এবং প্রচলিত রীতি-নীতির মাধ্যমেই আমাদের সংস্কৃতির পরিচয় প্রকাশ পায়।
আগের পাঠ: পাঠ ১ জল এবং আগুনের আখ্যান প্রশ্নোত্তর
পরের পাঠ: পাঠ ৩ মৃৎশিল্পের গরিমা প্রশ্নোত্তর
নানা রঙের উৎসব পদ্যটিতে বারো মাসের বিভিন্ন পার্বণ ও লোকসংস্কৃতির বিষয়ে সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই নানা রঙের উৎসব পাঠের Question Answer গুলো বাড়িতে ভালোভাবে চর্চা করবে।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন