সাধারণ মানুষের ঘরে বসে হাতে তৈরি করা নানা সামগ্রী আমাদের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে। Class 4 Bengali মৃৎশিল্পের গরিমা পাঠটির মধ্যে বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ঐতিহ্যবাহী মাটির শিল্পের কথা আলোচনা করা হয়েছে।
মৃৎশিল্পের গরিমা: পাঠের মূল কথা
রবিবার সকালে বারান্দায় বসে ছবি আঁকার সময় মিতার দাদু বাড়িতে আসেন। মিতার জন্মদিনের আগাম উপহার হিসেবে রং-তুলিতে আঁকা সুন্দর মাটির পুতুল, ফুলদানি, ঘট ও হাঁড়ি উপহার দেন। আগের বছর গরমের ছুটিতে মিতা যখন হাইলাকান্দি জেলার পানিভরা গ্রামে দাদুর বাড়িতে গিয়েছিল। তখন সে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে মাটির জিনিস তৈরি করতে দেখে মুগ্ধ হয়েছিল।
দাদু তাকে বুঝিয়ে বলেছিলেন কীভাবে বিশেষ কাদামাটি চাকে ঘুরিয়ে আকার দেওয়া হয়। এছাড়াও পরে আগুনে পুড়িয়ে ও রং করে সুন্দর সামগ্রী তৈরি করার পদ্ধতিও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
সন্ধ্যায় মিতা তার দাদুকে স্কুলের স্যারের দেওয়া কুটির শিল্পের প্রকল্পটি দেখায়। সেখানে সে মৃৎশিল্পের পাশাপাশি শুয়ালকুচির পাট-মুগা শিল্প, নলবাড়ি ও ভালুকমারির বাঁশ-বেত শিল্প, সর্থেবাড়ির কাঁসা শিল্প, মাজুলির মুখা শিল্প, আশারিকান্দির টেরাকোটা এবং কালীগঞ্জের শীতলপাটি শিল্পের কথা উল্লেখ করেছে।
দাদু মিতাকে জানান যে গুয়াহাটির রাজ্যিক সংগ্রহালয়ে প্রাচীন মাটির পাত্র সংরক্ষিত আছে। বরাক উপত্যকার পানিভরা ছাড়াও বেকিরপাড়, নয়াবিল, কাটলিছড়া ও আনিপুর গ্রাম মৃৎশিল্পের জন্য সুপরিচিত। আধুনিকতার প্রভাবে ও বিক্রির বাজারের অভাবে এই শিল্পীরা আজ সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আবার ভালো বাজার গড়ে তোলা সম্ভব।
Class 4 বাংলা মৃৎশিল্পের গরিমা Question Answer
১। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর শুদ্ধ উত্তর বেছে নিয়ে লেখো
(১) দাদু মিতাকে কী উপহার দিয়েছিলেন? উত্তর: (ঘ) মাটির তৈরি সামগ্রী।
(২) মিতা কী বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তুত করেছিল? উত্তর: (ঘ) পানিভরার মৃৎশিল্প।
(৩) মৃৎশিল্প কী দিয়ে তৈরি হয়? উত্তর: (ক) মাটি।
২। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
(ক) মৃৎশিল্প তৈরি করতে কী উপাদান প্রয়োজন? উত্তর: মৃৎশিল্প তৈরি করার জন্য প্রধান উপাদান হিসেবে নির্দিষ্ট ধরনের আঠালো কাদামাটি, জল, আকার দেওয়ার জন্য কুমোরের চাক, পোড়ানোর জন্য আগুন এবং সাজানোর জন্য রং ও তুলির প্রয়োজন হয়।
(খ) অসমের কোন্ জায়গা পাট-মুগা শিল্পের জন্য বিখ্যাত? উত্তর: অসমের শুয়ালকুচি পাট-মুগা শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
(গ) বাঁশ-বেতের শিল্পের জন্য অসমের কোন্ জায়গা বিখ্যাত? উত্তর: বাঁশ-বেতের শিল্পের জন্য অসমের নলবাড়ি এবং ভালুকমারি বিখ্যাত।
৩। স্থান ও শিল্পগুলোর মধ্যে মিল না-থাকা সামগ্রীগুলো বেছে বের করো এবং কেন অমিল রয়েছে লেখো
উত্তর: প্রশ্নে দেওয়া প্রতিটি স্থানের সাথেই ভুল শিল্পের নাম যুক্ত করা হয়েছে। নিচে অমিল থাকার কারণ ও সঠিক তথ্য দেওয়া হলো:
- সর্থেবাড়ির - মুগা শিল্প: এটি অমিল, কারণ সর্থেবাড়ি কাঁসা-শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
- বেকিরপাড়, পানিভরার - কাঁসা শিল্প: এটি অমিল, কারণ বরাক উপত্যকার বেকিরপাড় ও পানিভরা গ্রাম মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত।
- শুয়ালকুচির - শীতলপাটি শিল্প: এটি অমিল, কারণ শুয়ালকুচি পাট-মুগা শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
- কালীগঞ্জের - মৃৎশিল্প: এটি অমিল, কারণ কালীগঞ্জ শীতলপাটি শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
৪। মৃৎশিল্প কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: মৃৎশিল্প তৈরির জন্য প্রথমে বিশেষ ধরনের কাদামাটির সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর সেই মাটিকে কুমোরের ঘুরন্ত চাকের ওপর রেখে নানা ধরনের পাত্রের আকার দেন।
তারপর কাঁচা মাটির সামগ্রীগুলোকে উচ্চ তাপমাত্রায় আগুনে পোড়ানো হয়। সর্বশেষে শিল্পীরা নানা শৈলীতে রং করে সুন্দর মাটির জিনিস তৈরি করেন。
৫। পড়ো ও লেখো
(ক) মৃৎশিল্পীরা কী কী সামগ্রী তৈরি করেন? উত্তর: মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে পুতুল, ফুলদানি, ঘট, কলস, হাঁড়ি, সরা, পাতিল, মাটির প্রদীপ, ফুলের টব এবং নানা রকমের বাসনপত্র তৈরি করেন।
(খ) 'মৃৎশিল্প বরাক উপত্যকার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ'- কথাটির অর্থ লেখো। উত্তর: এই কথাটির অর্থ হলো বরাক উপত্যকার মানুষের সমাজজীবন, পূজা-পার্বণ ও সংস্কৃতির সাথে মাটির তৈরি শিল্প ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলের পানিভরা, বেকিরপাড়, নয়াবিল, কাটলিছড়া ও আনিপুরের মতো গ্রামগুলোতে মাটির ঘট, প্রদীপ, প্রতিমা এবং গৃহস্থালির বাসনপত্র তৈরি হয়ে আসছে। এটি এখানকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৬। ছোট থেকে বড় মিলিয়ে লেখো
(ক) শ্রীভূমি, আনিপুর, অসম। উত্তর: আনিপুর, শ্রীভূমি, অসম।
(খ) দাদু, মিতা, মিতার মা। উত্তর: মিতা, মিতার মা, দাদু।
(গ) দিশপুর, ভারত, অসম। উত্তর: দিশপুর, অসম, ভারত।
৭। মাটির তৈরি সামগ্রীর ছবিতে শুদ্ধ ✓ চিহ্ন দাও
উত্তর: ছবিতে থাকা সামগ্রীগুলোর মধ্যে মাটির তৈরি সামগ্রীসমূহ হলো:
- মাটির গামলা/পাত্র
- মাটির কলসি
- মাটির কাপ/পাত্র
ভাষা-অধ্যয়ন: সর্বনাম পদ
৮। (খ) নীচে দেওয়া অনুচ্ছেদ থেকে সর্বনাম পদ বেছে বের করে খাতায় লেখো (সিংহ ও জিরাফের অনুচ্ছেদ): উত্তর: প্রদত্ত অনুচ্ছেদটিতে থাকা সর্বনাম পদগুলো হলো: সে, তাকে এবং তার।
(ক) রাম একটি ভালো ছেলে। সে সবসময় ভালোভাবে পড়াশোনা করে।
(খ) মিতা দাদুকে দেখে খুব আনন্দিত হলো। সে দাদুর কাছে ছুটে গেল।
(গ) মিতা আর আমি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমরা নিয়মিত স্কুলে যাই।
(ঘ) মহাত্মা গান্ধীকে আমরা 'বাপু' বলে সম্বোধন করি। তিনি ভারতের কুটির শিল্পের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
জ্ঞান-সম্প্রসারণ ও প্রকল্পের কাজ
উত্তর: কুটির-শিল্প গ্রামীণ সমাজ ও মানুষের জীবিকা নির্বাহে নানাভাবে সাহায্য করে:
- গ্রামের অনেক দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা ঘরে বসেই নানা সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
- কম পুঁজিতে এবং ঘরোয়া পরিবেশে এই শিল্প গড়ে তোলা যায়। এর ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
- অসমের পাট-মুগার কাপড়, কাঁসা-পিতলের বাসন ও শীতলপাটি বিদেশে রপ্তানি হয়। এই রপ্তানির ফলে দেশের আয় ও সুনাম বৃদ্ধি পায়।
১০। তোমরাও নিশ্চয়ই গরমের ছুটিতে কোথাও বেড়াতে গিয়ে নতুন কিছু জেনেছ বা শিখেছ। তোমার অভিজ্ঞতা পঞ্চাশটি শব্দের মধ্যে লেখো। উত্তর: গত গরমের ছুটিতে আমি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি ও বাঁশ-বেতের শিল্প সম্পর্কে অনেক নতুন কথা জানতে পারি। গ্রামের শিল্পীরা প্রথমে মুর্তা গাছের বেত জলে ভিজিয়ে ও সেদ্ধ করে সরু বেতি বানিয়ে নেন। এরপর সেই বেতি বুনে সুন্দর ও ঠান্ডা শীতলপাটি তৈরি করেন। তাঁদের এই ধৈর্য ও হাতের কারুকাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।
উত্তর: আমাদের আশপাশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী ও সেগুলোর কুটির-শিল্পের নাম নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
- সামগ্রী: দেবী প্রতিমা, মাটির হাঁড়ি ও প্রদীপ। কুটির শিল্প: মৃৎশিল্প।
- সামগ্রী: মুগা সিল্কের শাড়ি ও মেখেলা-চাদর। কুটির শিল্প: মুগা শিল্প।
- সামগ্রী: শীতলপাটি। কুটির শিল্প: পাটি শিল্প।
- সামগ্রী: বাঁশের কুলা, ঝুড়ি ও জাপি। কুটির শিল্প: বাঁশ-বেত শিল্প।
- সামগ্রী: কাঁসার থালা, বাটি ও গ্লাস। কুটির শিল্প: কাঁসা শিল্প।
- সামগ্রী: পিতলের কলস ও শরাফ। কুটির শিল্প: পিতল শিল্প।
১২। গাছের ডাল-পাতা ব্যবহার করে একটি পতঙ্গ তৈরি করে খালি বাক্সে আঠা দিয়ে লাগাও। উত্তর: তোমরা গাছের শুকনো পাতা ও গাছের সরু ডাল সংগ্রহ করে খুব সহজে পতঙ্গ তৈরি করতে পারো। প্রথমে একটি কাজ করবে, মাঝারি আকারের একটা হলুদ পাতাকে পতঙ্গের মূল শরীর হিসাবে বসিয়ে নিবে। এরপর দুটি লম্বাটে সবুজ পাতাকে দুই ডানার মতো বসাবে। শুকনো কাঠির ছোটো টুকরো দিয়ে পা ও শুঁড় বানিয়ে খাতার নির্দিষ্ট স্থানে আঠা দিয়ে আটকে দেবে।
পাঠের অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর (সহায়ক অংশ)
১। কুটির শিল্প কাকে বলে? উত্তর: সাধারণ মানুষের নিজ নিজ ঘরে বসে হাতের কারুকাজের মাধ্যমে যে সমস্ত সামগ্রী উৎপাদন করা হয়, সেই শিল্পকে কুটির শিল্প বলা হয়।
২। মৃৎশিল্পী বা কুমোর কাদের বলা হয়? উত্তর: যাঁরা কাদামাটি দিয়ে চাকে ঘুরিয়ে নানা ধরনের মাটির পাত্র, পুতুল ও প্রতিমা তৈরি করেন। তাঁদেরকে মৃৎশিল্পী বা কুমোর বলা হয়।
৩। অসমের কোন্ স্থান মুখা-শিল্প এবং কোন্ স্থান টেরাকোটা শিল্পের জন্য বিখ্যাত? উত্তর: অসমের মাজুলি মুখা-শিল্প বা মুখোশ-শিল্পের জন্য এবং ধুবড়ি জেলার আশারিকান্দি টেরাকোটা শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
৪। 'জাপি' কী এবং অসমের কোথায় ফুলেল জাপি তৈরি করা হয়? উত্তর: 'জাপি' হলো অসমিয়া সমাজে ব্যবহৃত বাঁশ-বেত ও পাতার তৈরি এক বিশেষ ধরনের মাথার আচ্ছাদন। অসমের নলবাড়ি জেলার জাপারকুসিতে ফুলেল জাপিসহ বিভিন্ন প্রকারের জাপি তৈরি করা হয়।
আগের পাঠ: পাঠ ২ নানা রঙের উৎসব প্রশ্নোত্তর
পরের পাঠ: পাঠ ১ ঠাম্মার খাদ্য প্রশ্নোত্তর
Class 4 Bengali মৃৎশিল্পের গরিমা Question Answer গুলো মন দিয়ে পড়বে। এছাড়া ভাষা-অধ্যয়ন অংশের সর্বনাম পদের ব্যবহার শেখার জন্য নতুন কোনো বিষয় নিয়ে লিখলে ব্যাকরণের ধারণা আরও স্পষ্ট হবে।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন