সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জল এবং আগুনের আখ্যান Question Answer Class 4, Assam

অরুণাচল প্রদেশের আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত একটি চমৎকার লোককথা হলো জল এবং আগুনের আখ্যান। Class 4 Bengali 'জল এবং আগুনের আখ্যান' পাঠটির মধ্যে দেখানো হয়েছে কীভাবে নিজেদের শক্তির অহংকার নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়। 'জল এবং আগুনের আখ্যান' পাঠটির প্রশ্ন উত্তর ও ব্যাকরণের সমাধানগুলোর বিষয়ে আমরা নিচে আলোচনা করলাম।

জল এবং আগুনের আখ্যান: সংক্ষিপ্ত সারমর্ম

কে বেশি শক্তিশালী তা নিয়ে একবার জল ও আগুনের মধ্যে ভীষণ ঝগড়া এবং তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। আগুনের দাবি ছিল সে মুহূর্তের মধ্যে পুরো পৃথিবী পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে। 

অন্যদিকে জলের অহংকার ছিল সে পাহাড়-পর্বতসহ পুরো পৃথিবী ডুবিয়ে দিতে পারে। আগুনকে নেভাতে তার মাত্র দু-ফোঁটা জলই যথেষ্ট। দুজনের এই লড়াইয়ের ফলে চারপাশের অনেক জায়গা জলে ডুবে গেল। আগুনের তাপে বহু প্রাণী পুড়ে মারা গেল।

মানুষ ও দেশ-বিদেশের প্রাণীরা এই ভয়াবহ বিপদ দেখে সবাই মিলে একটি বিচারসভার আয়োজন করল। সভাসদরা দুজনের শক্তির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আগুনকে পাহাড়ের তলদেশে জ্বলতে বললেন এবং জলকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নেমে আসতে নির্দেশ দিলেন। 

পাহাড়ের ওপর থেকে জল প্রচণ্ড বেগে নিচে নেমে আসতে লাগলো। তা দেখে আগুন ভাবল, জল যদি তাকে পুরোপুরি নিভিয়ে দেয় তবে পৃথিবীর মানুষের খুব কষ্ট হবে। তাই আগুন বুদ্ধি করে পাথরের ভেতরে লুকিয়ে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করল। 

এদিকে চারপাশ জলে ডুবে যাওয়ায় প্রাণীদের হাবুডুবু খেতে দেখে জল নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হলো। শেষে পাথর থেকে আগুন বেরিয়ে এল। এরপর দুজনেই শপথ করল যে তারা আর কখনো ঝগড়া না করে মিলেমিশে থাকবে।

Class 4 Bengali জল এবং আগুনের আখ্যান Question Answer :

১। নীচের প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো

(১) 'ইস! তোর যত বড় বড় কথা। তুই কত শক্তিশালী আমার জানা আছে।' এই কথা কে, কাকে বলেছে? উত্তর: (খ) জল আগুনকে বলেছিল।

(২) 'এই কথা ভেবে তার মন খারাপ হয়ে যায়।'- এখানে কার মন খারাপ হয়ে যায়? উত্তর: (ঘ) আগুনের।

২। নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর বলো এবং লেখো

(ক) কেন জল এবং আগুন ঝগড়া করেছিল? উত্তর: নিজেদের শক্তির অহংকার এবং দুজনের মধ্যে কে বেশি শক্তিশালী, তা প্রমাণ করার জন্যই জল এবং আগুন ঝগড়া করেছিল।

(খ) সভাসদরা কাকে পাহাড়ে থাকতে বলেছিল? উত্তর: সভাসদরা জলকে পাহাড়ের ওপরে উঠে অপেক্ষা করতে এবং আগুনকে পাহাড়ের তলদেশে বা পাদদেশে জ্বলতে বলেছিল।

(গ) 'সমগ্র পৃথিবীকে ঢেকে আছি' কে বলেছিল? উত্তর: 'সমগ্র পৃথিবীকে ঢেকে আছি' এই কথাটি জল আগুনকে বলেছিল।

(ঘ) দেশ-বিদেশের সমস্ত প্রাণী কেন জড়ো হয়েছিল? উত্তর: জল ও আগুনের তুমুল যুদ্ধের ফলে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তাই তাদের এই ঝগড়ার বিচার ও মীমাংসা করার জন্য মানুষের ডাকা সভায় দেশ-বিদেশের সমস্ত প্রাণী জড়ো হয়েছিল।

৩। কে, কাকে, কেন বলেছিল লেখো

(ক) 'এই দুটি শক্তি আমাদের জন্য অপরিহার্য। তাই আমাদের শীঘ্রই এই বিরোধের মীমাংসা করতে হবে।' উত্তর: এই কথাটি মানুষেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার সময় একে অপরকে বলেছিল।
জল এবং আগুনের লড়াইয়ে চারপাশ তছনছ হয়ে যাচ্ছিল। এছাড়াও পরাজিত শক্তি পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। বেঁচে থাকার জন্য জল ও আগুন দুটোই মানুষের খুব প্রয়োজনীয় হওয়ায় তারা এই বিবাদের মীমাংসা করতে চেয়েছিল।

(খ) 'আয় জল, তোকে ফুটিয়ে বাষ্প করে দিই।' উত্তর: এই কথাটি আগুন জলকে বলেছিল।
ঝগড়ার সময় জল যখন অহংকার করে বলেছিল যে আগুনকে হারানোর জন্য তার মাত্র দু-ফোঁটা জলই যথেষ্ট। তখন জলের সেই অপমানজনক কথা শুনে প্রচণ্ড রেগে গিয়ে আগুন একথা বলেছিল।

৪। জল ও আগুনের আখ্যানটি সংক্ষেপে লেখো

উত্তর: একবার শক্তির বড়াই নিয়ে জল ও আগুনের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ বাধে। এর ফলস্বরূপ ‌পৃথিবীর অনেক স্থান প্লাবিত হয় এবং বহু প্রাণী আগুনে পুড়ে যায়। বিপদ দেখে মানুষ ও পশুপাখিরা মিলে এক সভার আয়োজন করে। সভাসদরা পরীক্ষার জন্য আগুনকে পাহাড়ের নিচে জ্বলতে এবং জলকে পাহাড়ের ওপর থেকে স্রোতের মতো নামতে বলেন। 

জলের প্রবল স্রোত দেখে আগুন মানুষের সুবিধার কথা ভেবে পাথরের ভেতর লুকিয়ে পড়ে। অন্যদিকে পুরো পৃথিবী জলে ডুবে প্রাণীদের কষ্ট হতে দেখে জল নিজের ভুল বুঝতে পারে। এরপর দুজনেই নিজেদের অহংকার ত্যাগ করে মিলেমিশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়।

৫। শব্দজাল থেকে একই অর্থ প্রকাশ করে এমন শব্দ খুঁজে লেখো

  • গিলে ফেলা কাজ: গ্রাস।
  • বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে থাকা: বিষণ্ণ।
  • নিজেকে অন্যদের চেয়ে বড় ভাবা — বড়াই।
  • জলে ডুবে থাকা: জলমগ্ন।
  • কোনো অভিযোগ বিচারের জন্য একজোট হওয়া সমাজ: মেল।
  • সভায় উপস্থিত ব্যক্তি: সভাসদ।

ভাষা-অধ্যয়ন ও ব্যাকরণের কাজ

৬। (খ) নীচের বাক্যগুলির বিশেষণ পদ খুঁজে বের করো:
  • ফাতিমা একটি শান্ত মেয়ে: শান্ত।
  • আজ মেঘলা আবহাওয়া: মেঘলা।
  • জিরাফের ঘাড় অনেক লম্বা: লম্বা ।
  • ভালো গান শোনো: ভালো।

৬। (গ) নীচের অংশটি পড়ো এবং বিশেষণ পদ খুঁজে বের করো (ঋতুর পোষা কুকুর কোকোর অনুচ্ছেদ): উত্তর: প্রদত্ত অনুচ্ছেদটিতে থাকা বিশেষণ পদগুলো হলো: পোষা, কুসুম গরম, গরম, খুব, শান্ত, অপরিচিত, জোরে, ঘেউ-ঘেউ, স্বাস্থ্যবান এবং দুষ্ট।

৭। 'সভাসদদেরও শঙ্কা দূর হলো এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হলো।' -এই বাক্যে 'মনোবাঞ্ছা' শব্দটির যুক্তাক্ষর ও শূন্যস্থান পূরণ:

উত্তর: 'মনোবাঞ্ছা' শব্দটিতে যুক্তাক্ষর হলো 'ঞ্ছ' (ঞ + ছ)।

'ঞ্ছ' যুক্তাক্ষর দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ:
  • বাঞ্ছা।
  • লাঞ্ছনা।
  • বাঞ্ছনীয়।

৮। (ক) নীচের বাক্যাংশটিতে 'থেকে' ব্যবহার করে শূন্যস্থানে লেখো: (পুঁটির তুলনায় বোয়াল মাছ বড়) উত্তর: পুঁটির থেকে বোয়াল মাছ বড়।

সহজে মনে রাখার কৌশল: বাক্যে থাকা বিশেষ্য বা ক্রিয়াপদকে 'কেমন', 'কত' বা 'কীভাবে' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই হলো বিশেষণ পদ। যেমন: কেমন শিখা? উত্তর হলো 'লাল'। তাই 'লাল' শব্দটি বিশেষণ।

জ্ঞান-সম্প্রসারণ ও প্রকল্পের কাজ

৯। প্রাচীনকালে মানুষ পাথরের ঘর্ষণ ছাড়াও আর কীসের ঘর্ষণে স্ফুলিঙ্গ তৈরি করত? দলের মধ্যে আলোচনা করে লেখো। উত্তর: প্রাচীনকালে মানুষ পাথরে পাথর ঘষা ছাড়াও দুটি শুকনো কাঠের টুকরো কিংবা শুকনো বাঁশের খণ্ড একে অপরের সাথে জোরে ঘর্ষণ করে আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করত।

১০। জল আর আগুন না-থাকলে আমাদের কী অবস্থা হতো? ভাবো আর লেখো। উত্তর: জল এবং আগুন ছাড়া পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ত। জল না থাকলে আমরা তৃষ্ণা মেটাতে পারতাম না, চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যেত এবং গাছপালা ও প্রাণীকুল শুকিয়ে মারা যেত। 

অন্যদিকে আগুন না থাকলে আমরা খাবার রান্না করে খেতে পারতাম না। এছাড়াও শীতের দিনে উষ্ণতা পেতাম না এবং অন্ধকার দূর করা বা কলকারখানা চালানো সম্ভব হতো না।

১১। (খ) গল্পের ক্রম অনুসারে বাক্যগুলিকে পাশের বাক্সগুলিতে ক্রমিক নম্বর বসাও: উত্তর: পাঠ্যবইয়ের বাক্সগুলোতে উপর থেকে নিচে ক্রমিক নম্বরগুলো হবে:
  • প্রথম বাক্স (কানাই শ্যামকে কয়েকটা টোপ দিল...): ৫
  • দ্বিতীয় বাক্স (সে অনেকক্ষণ রোদে ঘেমে-নেয়ে...): ২
  • তৃতীয় বাক্স (এক গ্রামে শ্যাম নামে একটি ছেলে ছিল...): ১
  • চতুর্থ বাক্স (কানাই নামের একটা ছেলে দূরে...): ৩
  • পঞ্চম বাক্স (শ্যামের অবস্থা দেখে কানাই তার কাছে এল...): ৪

১১। (গ) বাক্যগুলো যে ক্রমে সাজিয়েছ সেই ক্রমে গল্পটি লেখো এবং গল্পের একটি নাম দাও। উত্তর:
গল্পের নাম: ধৈর্যের ফল

সাজানো গল্প: এক গ্রামে শ্যাম নামে একটি ছেলে ছিল। একদিন সে বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল। সে অনেকক্ষণ রোদে ঘেমে-নেয়ে বড়শি ফেলে বসেছিল। কিন্তু একটি মাছও তার বড়শিতে আটকায়নি। এদিকে টোপ শেষ হয়ে আসছিল। সে খুব অধৈর্য হয়ে পড়ল। 

কানাই নামের একটা ছেলে দূরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিল। শ্যামের অবস্থা দেখে কানাই তার কাছে এল। সে শ্যামকে বলল, 'কিছুক্ষণ ধৈর্য ধর্ তো।' কানাই শ্যামকে কয়েকটা টোপ দিল। কিছুক্ষণ পর শ্যামের বড়শিতে একটা বড় চ্যাং মাছ ধরা পড়ল।

১৩। তোমার স্কুলের লাইব্রেরিতে যেসব রূপকথার বই আছে তার একটি তালিকা তৈরি করো: উত্তর: খেয়াল করে দেখবে, স্কুলের লাইব্রেরিতে থাকা রূপকথার বইগুলোর তথ্য নিচে পরপর সাজিয়ে দেওয়া হলো:
  • ১. বইটির নাম: ঠাকুরমার ঝুলি। সংগ্রাহক/লেখকের নাম: দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স। প্রকাশের বছর: ১৯০৭।
  • ২. বইটির নাম: রূপকথার গল্প। সংগ্রাহক/লেখকের নাম: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। প্রকাশক: ইউ রায় অ্যান্ড সন্স। প্রকাশের বছর: ১৯১০।
  • ৩. বইটির নাম: বানর রাজপুত্র। সংগ্রাহক/লেখকের নাম: সংকলিত লোককথা। প্রকাশক: ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট। প্রকাশের বছর: ২০১৫।
  • ৪. বইটির নাম: চীনদেশের রূপকথা। সংগ্রাহক/লেখকের নাম: মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায় (অনুবাদক)। প্রকাশক: শিশু সাহিত্য সংসদ। প্রকাশের বছর: ১৯৮২।

আগের পাঠ: পিতা-মাতা প্রশ্নোত্তর

পরের পাঠ: নানা রঙের উৎসব প্রশ্নোত্তর

জল এবং আগুনের আখ্যান পাঠে প্রাকৃতিক শক্তির গুরুত্ব এবং পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়টি লোককথার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। 

শেয়ার করুন:

মন্তব্যসমূহ