সমাজের সবচেয়ে ছোটো এবং প্রথম সমষ্টি হলো পরিবার। আর ১টি পরিবারের প্রধান অভিভাবক হলেন আমাদের বাবা ও মা। Clasa 4 Bengali পিতা-মাতা পাঠটিতে সন্তানের প্রতি মা-বাবার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে।
পাঠ ১ পিতা-মাতা রচনার মূল কথা
পৃথিবীতে আমাদের যত বন্ধু বা উপকারী মানুষ আছেন। এদের মধ্যে পিতা-মাতাই হলেন শ্রেষ্ঠ। তাঁরা আমাদের জন্ম দিয়ে লালন-পালন করেন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও জ্ঞান দিয়ে সংসারে চলার উপযোগী করে তোলেন।
সন্তানের মুখের হাসির জন্য তাঁরা নিজেরা না খেয়ে এবং ভালো পোশাক না পরে আগে সন্তানকে দেন। সন্তান অবাধ্য বা দুষ্ট হলেও মা-বাবা কখনো তাকে স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেন না।
মায়ের এই অসীম ভালোবাসার প্রমাণ দিতে লেখক একটি ঘটনার কথা বলেছেন। একবার এক দেশে উঠোনে শুয়ে থাকা একটি ছোটো শিশুকে একটি বড়ো ইগল পাখি ছোঁ মেরে উঁচু ও কাঁটায় ভরা দুর্গম পর্বতের চূড়ায় নিয়ে যায়।
লোকজনের চিৎকারে ইগলটি শিশুটিকে ছেড়ে উড়ে গেল। কিন্তু সেই ভয়ংকর পাহাড়ে ওঠার সাহস কোনো যুবক বা যোদ্ধা সৈনিকের হয়নি।
শিশুটির মা নিজের জীবনের ভয় তুচ্ছ করে কাঁটা ও জঙ্গল পেরিয়ে পর্বতের চূড়ায় ওঠেন। এরপর রক্তাক্ত শরীর নিয়ে নিজের সন্তানকে কোলে করে ফিরিয়ে আনেন।
চতুর্থ শ্রেণি বাংলা পিতা-মাতা প্রশ্ন উত্তর
১। দাগ টানা শব্দগুলোর স্থানে ঘণ্টার ছবি থেকে যথার্থ অর্থ বসিয়ে বাক্য পুনরায় লেখো
(ক) পিতামাতা সন্তানের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করেন। উত্তর: পিতামাতা সন্তানের জন্য নিজের হিত চিন্তা ত্যাগ করেন।
(খ) পিতা-মাতা আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। উত্তর: পিতা-মাতা আমাদের উত্তম বন্ধু।
(গ) পিতামাতার কাছে সন্তান দুষ্ট হলেও শিষ্ট। উত্তর: পিতামাতার কাছে সন্তান দুষ্ট হলেও সাধু।
(ঘ) শিশুটির মা সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে পর্বতের শীর্ষে উঠে গেলেন। উত্তর: শিশুটির মা সমস্ত ভয় অবহেলা করে পর্বতের শীর্ষে উঠে গেলেন।
(ঙ) লোকজনেরা সংকট দেখে চিৎকার শুরু করল। উত্তর: লোকজনেরা বিপদ দেখে চিৎকার শুরু করল।
২। শুদ্ধ উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো
(১) ইগল পাখিটি পর্বতের শীর্ষে রেখে আসা শিশুটিকে কে কোলে তুলে এনেছিলেন? উত্তর: (খ) শিশুটির মা।
(২) 'পিতা-মাতা হলেন জীবন্ত দেবতা, তাঁরা স্নেহ ও পরোপকারের অবতার স্বরূপ।' লেখক এই কথা বলার কারণ হলো পিতা-মাতা সন্তানের- উত্তর: (গ) আশীর্বাদ ও মঙ্গল চিন্তা করেন।
(৩) এই পাঠে উল্লেখিত যুবক, সাহসী লোক ও যোদ্ধা সৈনিকেরা কেন পর্বতে উঠতে ভয় পেয়েছিল? উত্তর: (গ) পর্বতটি অতি উঁচু, দুর্গম ও কাঁটায় পরিপূর্ণ থাকার জন্য।
৩। উল্লিখিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দুটি তুমি কেন শুদ্ধ বলে বেছে নিয়েছ? বুঝিয়ে বলো
উত্তর: দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে, পিতা-মাতা সারাজীবন নিঃস্বার্থভাবে সন্তানের সুখ, উন্নতি ও নাম-যশের কথা চিন্তা করেন। মৃত্যুর সময়ও তাঁরা প্রাণভরে আশীর্বাদ দিয়ে যান। তাই তাঁদের স্নেহ ও পরোপকারের অবতার বলা হয়েছে।
তৃতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে- ইগলটি যে পাহাড়ের চূড়ায় শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত খাড়া, দুর্গম জঙ্গল এবং ধারালো কাঁটায় ভরা। সেখানে যাওয়াটা ভীষণ বিপজ্জনক ছিল বলেই যুবক ও যোদ্ধা সৈনিকেরা উপরে উঠতে ভয় পেয়েছিল।
৪। শুদ্ধ বাক্যগুলোর পাশে শুদ্ধ চিহ্ন দাও
- এই সংসারে পিতা-মাতা হলেন আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু: শুদ্ধ (✓)।
- পিতা-মাতা নিজের স্বার্থের জন্যই সন্তানকে স্নেহ-যত্ন করেন: অশুদ্ধ (✗)।
- সন্তানের সুখ, উন্নতি ও নাম-যশের হওয়াটা সকল পিতা-মাতা কামনা করেন: শুদ্ধ (✓)।
- শুয়ে থাকা শিশুটিকে ছোঁ মেরে ইগলটি পর্বতের শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল: শুদ্ধ (✓)।
৫। দলগতভাবে আলোচনা করে বলো ও লেখো
(ক) 'আমরা তাঁদের অবাধ্য হলেও তাঁরা আমাদের দূরে সরিয়ে দিতে পারেন না, স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেন না।'- পিতা-মাতা কেন আমাদের দূরে সরিয়ে দিতে পারেন না বুঝিয়ে বলো। উত্তর: পিতা-মাতা আমাদের জন্মদাতা এবং সন্তানের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ। সন্তানের সামান্য কষ্ট দেখলেই তাঁদের মনে গভীর বেদনা জাগে।
তাই সন্তান কখনো না বুঝে ভুল করলে বা অবাধ্য হলেও মা-বাবা তার ওপর অভিমান করে থাকতে পারেন না। সন্তানের মঙ্গলের টানেই তাঁরা সব অপরাধ ক্ষমা করে আবার বুকে টেনে নেন।
(খ) যেখানে যুবক, সাহসী লোক, এমনকি যোদ্ধা সৈনিকও গিয়ে দুর্গম পর্বতের শীর্ষে যেতে সাহস করেনি, সেখানে শিশুটির মা কেন সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে সন্তানকে কোলে তুলে এনেছিলেন? উত্তর: সন্তানের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কোনো কিছুই মায়ের কাছে নেই। অন্য লোকেরা এবং সৈনিকেরা পাহাড়ের উঁচু পথ ও কাঁটার আঘাতে নিজেদের প্রাণ হারানোর ভয় পেয়েছিল।
কিন্তু মায়ের মনে তখন কেবল নিজের অসহায় শিশুকে বাঁচানোর ব্যাকুলতা কাজ করছিল। সন্তানের প্রতি গভীর মমতা ও নাড়ির টানই মাকে অসীম সাহস জুগিয়েছিল। এর ফলে তিনি নিজের শরীরের ক্ষত ও ভয়ের কথা ভুলে পর্বতের শীর্ষে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে এনেছিলেন।
৬। শব্দগুলি দিয়ে একটা করে বাক্য রচনা করো
- পরোপকার: মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং পরোপকার করা একটি মহৎ গুণ।
- দুর্গম — পাহাড়ের সেই দুর্গম পথ পেরিয়ে ওপরে ওঠা খুবই কঠিন কাজ ছিল।
- রাঙা: ভোরের আকাশে পূর্বদিকে রাঙা সূর্য ধীরে ধীরে জেগে উঠছে।
- যশ: ভালো কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবনে যশ লাভ করা যায়।
ভাষা-অধ্যয়ন: বিশেষ্য পদ নির্ণয়
দাগ টানা বাক্যাংশ: গুয়াহাটি একটি বড় শহর। এই শহরের প্রাচীন নাম প্রাগজ্যোতিষপুর। গুয়াহাটির আমবাড়িতে দিঘলিপুখুরি আছে। কথিত আছে, এই পুকুরটি প্রাগজ্যোতিষপুরের রাজা ভগদত্ত খনন করিয়েছিলেন। ভগদত্তের একটা প্রকাণ্ড হাতি ছিল। হাতিটির নাম ছিল সুপ্রতীক। ভগদত্ত সুপ্রতীকের পিঠে চড়ে মহাভারতের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
কেন এগুলো বিশেষ্য পদ:- গুয়াহাটি, প্রাগজ্যোতিষপুর, আমবাড়ি: এগুলো একেকটি নির্দিষ্ট স্থানের নাম বোঝাচ্ছে।
- শহর: এটি স্থানের একটি শ্রেণির নাম।
- দিঘলিপুখুরি: এটি একটি নির্দিষ্ট পুকুর বা জলাশয়ের নাম।
- পুকুর: এটি জলাশয়ের একটি শ্রেণির নাম।
- রাজা: এটি মানুষের পদ বা একটি শ্রেণির নাম।
- ভগদত্ত: এটি একজন নির্দিষ্ট মানুষের নাম।
- হাতি: এটি প্রাণীর একটি শ্রেণির নাম।
- সুপ্রতীক: এটি একটি নির্দিষ্ট হাতির নাম।
- পিঠ: এটি প্রাণীর দেহের একটি অঙ্গের নাম।
- মহাভারত: এটি একটি বিখ্যাত মহাকাব্য বা গ্রন্থের নাম।
জ্ঞান-সম্প্রসারণ ও প্রকল্পের কাজ
৮। নীচে দেওয়া ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখো। ছবিগুলো দেখে তোমার মনে কী ভাব উদয় হয়েছে লেখো।
উত্তর: পাঠ্যবইয়ের চারটি ছবিতে পরিবারের বড়োদের কাজে ছোটোদের সহযোগিতা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুন্দর দৃশ্য ফুটে উঠেছে।
প্রথম ছবিতে রোদে মাটি কোপানোর সময় একটি ছেলে কৃষকদের জন্য জল নিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ছবিতে রাস্তায় দুর্ঘটনায় আহত একজন মানুষের ক্ষতস্থানে ছোটো ছেলেমেয়েরা সেবা করছে।
তৃতীয় ছবিতে বাগানে কর্মরত মায়েদের জন্য ছোটোরা খাবার ও জল বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ ছবিতে বেড়া বাঁধার কাজে একটি ছেলে বড়োদের হাতে বাঁশ এগিয়ে দিচ্ছে।
ছোটোবেলা থেকেই পরিবারের মানুষ ও সমাজের প্রতি এমন দায়িত্ববোধ থাকলে পারস্পরিক ভালোবাসা অনেক গভীর হয়।
৯। (খ) বাড়ির সদস্যদের আচার-ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর? উত্তর: বাড়ির সদস্যদের আচার-ব্যবহার সবসময় নম্র, ভদ্র ও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। পরিবারের বড়োদের সম্মান করা, ছোটোদের স্নেহ করা এবং বাড়িতে কোনো অতিথি বা বন্ধু এলে হাসিমুখে তাঁদের আদর-যত্ন ও কুশল বিনিময় করা উচিত।
৯। (খ) একটি সুস্থ ও সবল সমাজ গড়ার জন্য পরিবারের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত? উত্তর: সমাজের মূল ভিত্তি হলো পরিবার। প্রতিটি পরিবার যদি তাদের সন্তানদের সৎ, পরোপকারী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে,নং। তবে সেই ভালো পরিবারগুলোর সমষ্টিতে আপনা-আপনিই একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে।
- মা-বাবার সব কথা মেনে চলব।
- বাড়ির ছোটোখাটো কাজে তাঁদের সাহায্য করব এবং নিজের বইপত্র গুছিয়ে রাখব।
- তাঁরা অসুস্থ হলে কাছে বসে সেবা করব এবং সময়মতো ওষুধ ও জল এগিয়ে দেব।
- প্রবীণ ও বয়স্ক মানুষদের সবসময় শ্রদ্ধা করব এবং নম্রভাবে কথা বলব।
- রাস্তা পারাপার হতে বা হাতে ভারী ব্যাগ থাকলে তাঁদের সাহায্য করব।
- অবসর সময়ে তাঁদের সাথে গল্প করে তাঁদের একাকীত্ব দূর করার চেষ্টা করব।
- প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে দেন।
- আমাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার রান্না করে খাওয়ান।
- পড়াশোনায় কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে তা সহজ করে বুঝিয়ে দেন।
- অসুখ হলে রাত জেগে আমাদের সেবা-যত্ন করেন।
পিতা মাতা পাঠের অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর-
১। 'পিতা-মাতা' পাঠটির মূল লেখক কে এবং এটি বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন? উত্তর: 'পিতা-মাতা' পাঠটির মূল লেখক হলেন লম্বোদর বরা। এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন সঞ্জয়চন্দ্র দাস।
২। সমাজের প্রথম সমষ্টি কী এবং পরিবারের প্রধান সদস্য কারা? উত্তর: সমাজের প্রথম সমষ্টি হলো পরিবার।
পরিবারের প্রধান সদস্য হলেন পিতা ও মাতা।
৩। প্রাগজ্যোতিষপুরের রাজা কে ছিলেন এবং তাঁর হাতিটির নাম কী ছিল? উত্তর: প্রাগজ্যোতিষপুরের রাজা ছিলেন ভগদত্ত। তাঁর প্রকাণ্ড হাতিটির নাম ছিল সুপ্রতীক।
আগের পাঠ: একটি ফুটো কলসি প্রশ্নোত্তর
পরের পাঠ: জল এবং আগুনের আখ্যান প্রশ্নোত্তর
চতুর্থ শ্রেণির 'পিতা-মাতা' পাঠটির মাধ্যমে আমাদের জীবনে মা-বাবার অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও সুন্দর সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন