সবাই তোমরা নিশ্চয়ই নীল আকাশ, সবুজ পাহাড় আর সাত রঙা রামধনু দেখতে খুব ভালোবাসো। চারপাশের এই রঙিন পৃথিবী কীভাবে তৈরি হলো, তা জানার কৌতূহল মানুষের অনেক দিনের। আজকের লেখায় আমরা পঞ্চম শ্রেণি বাংলা পাঠ ৮ রঙের রহস্য প্রশ্ন উত্তর এবং মহান বিজ্ঞানী নিউটন সম্পর্কেও জানতে পারবো।
পাঠ ৮ রঙের রহস্য পাঠের মূলভাব
সুকুমার রায়ের 'আজব খেলা' কবিতা দিয়ে এই পাঠটি শুরু হয়েছে। যেখানে সূর্য প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় আকাশে নতুন নতুন রঙের ছবি আঁকে। আদিম মানুষেরা প্রাচীনকালেও রঙের টানে গুহার দেয়ালে রঙিন ছবি আঁকত।
প্রায় দেড়শ বছর আগে মহান বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন সাবানের বুদবুদ উড়িয়ে রঙের রহস্য খুঁজে বের করেন। তিনি প্রথম প্রমাণ করেন যে সূর্যের সাদা আলোতে আসলে সাতটি রং লুকিয়ে থাকে। এই সাতটি রং মিলেই সাদা রং তৈরি হয়।
শুধু মানুষ নয়, পশুপাখিদের চোখেও রঙের খেলা চলে। শিম্পাঞ্জী, গরিলা, গিবন ও ওরাংওটাংয়ের মতো বনমানুষ এবং কিছু পাখি আমাদের মতোই বিভিন্ন রং চিনতে পারে। তবে কুমির সব জিনিসকে মাটির রঙে দেখে। অন্যদিকে মৌমাছিরা লাল রং চিনতে না পারলেও অতি-বেগুনি রং স্পষ্ট দেখতে পায়।
পাঠ ৮ রঙের রহস্য প্রশ্ন উত্তর (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ সমাধান)
ক - পাঠভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর
(ক) রঙের রহস্য কে আবিষ্কার করেছেন? উত্তর: মহান বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন সর্বপ্রথম রঙের রহস্য আবিষ্কার করেছেন।
(খ) সূর্যের আলোয় কয়টি রং থাকে? উত্তর: সূর্যের আলোয় সাতটি রং থাকে।
(গ) সাদা রং কীভাবে সৃষ্টি হয়? উত্তর: সূর্যের আলোয় থাকা সাতটি রং একসাথে মিলে সাদা রং সৃষ্টি হয়।
(ঘ) আদিম মানুষেরা গুহার গায়ে কী আঁকত? উত্তর: আদিম মানুষেরা গুহার গায়ে রঙিন ছবি আঁকত।
(ঙ) কোন কোন প্রাণী আমাদের মতো রং চেনে? উত্তর: গরিলা, গিবন, শিম্পাঞ্জী ও ওরাংওটাং জাতীয় বনমানুষ এবং কিছু পাখি আমাদের মতো রং চেনে।
কার কী রং দাগ টেনে মেলাও
| বস্তু বা জিনিসের নাম | সঠিক রং |
|---|---|
| ১. আকাশ | নীল |
| ২. গাছের পাতা | সবুজ |
| ৩. দুধ | সাদা |
| ৪. সর্ষে ফুল | হলুদ |
| ৫. বেগুন | বেগুনি |
শূন্যস্থান পূর্ণ করো
| অসম্পূর্ণ বাক্য | সঠিক উত্তর |
|---|---|
| (ক) স্যার _____ মতো অতবড়ো বিজ্ঞানী হাজার বছরে দুজন পাওয়া দুষ্কর। | আইজাক নিউটনের |
| (খ) _____ সব জিনিসকেই মাটির রং-এ দেখতে পায়। | কুমির |
| (গ) মৌ-মাছিরা _____ রংটি দেখতে পায়। | অতি-বেগুনি (Ultra-Violet) |
খ - ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ):
যুক্তবর্ণ ভেঙে দেখাও
উত্তর: ১. মুগ্ধ (গ্ধ) = গ্ + ধ১. আমোদ: পূজার ছুটিতে আমরা সবাই মিলে খুব আমোদ করলাম।
২. বুদবুদ: সাবান জলে ফুঁ দিলে রঙিন বুদবুদ আকাশে ওড়ে।
৩. দুষ্কর: পরিশ্রম না করলে পরীক্ষায় ভালো ফল করা দুষ্কর।
৪. রামধনু: বৃষ্টির শেষে নীল আকাশে সাত রঙা রামধনু দেখা যায়।
৫. আকর্ষণ: ছোটবেলা থেকেই গল্পের বইয়ের প্রতি আমার গভীর আকর্ষণ রয়েছে।
বিশেষণ পদে উপযুক্ত বিশেষ্য পদ বসাও
| বিশেষণ পদ | উপযুক্ত বিশেষ্য পদসহ উত্তর |
|---|---|
| উদাহরণ: নীল | নীল আকাশ |
| (ক) লাল | লাল জবা |
| (খ) সবুজ | সবুজ পাহাড় (বা সবুজ পাতা) |
| (গ) হলুদ | হলুদ সর্ষে ফুল |
গ - জ্ঞান-সম্প্রসারণ: রামধনুর সাতটি রঙের ক্রম (VIBGYOR)
একটি রামধনুর ছবি এঁকে নিচের ছক অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাতটি রং ব্যবহার করবে:
ইংরেজী সংকেত (VIBGYOR) — রঙের বাংলা নাম
২. O (Orange) — কমলা
৩. Y (Yellow) — হলুদ
৪. G (Green) — সবুজ
৫. B (Blue) — নীল
৬. I (Indigo) — ঘন নীল
৭. V (Violet) — বেগুনি
রং মেশালে কি কি নতুন রঙের সৃষ্টি হয়
| রঙের মিশ্রণ | নতুন সৃষ্ট রং |
|---|---|
| (ক) লাল + নীল | বেগুনি |
| (খ) লাল + হলুদ | কমলা |
| (গ) হলুদ + নীল | সবুজ |
| (ঘ) লাল + নীল + হলুদ | কালো (বা গাঢ় খয়েরি) |
দলে আলোচনা করে সংক্ষেপে নিচের বিষয় নিয়ে লেখো
১. রামধনু: উত্তর: বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের আলো জলের কণায় পড়লে সাত রঙের যে সুন্দর ধনুক দেখা যায়। সেটিকে রামধনু বলে। রামধনুতে বেগুনি, ঘন নীল, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল রং থাকে।
২. বায়ুমণ্ডল: উত্তর: আমাদের পৃথিবীর চারপাশে যে অদৃশ্য বাতাসের আবরণ ঘিরে রয়েছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। ভোরের বেলা সূর্যের আলোর অন্য রংগুলো বায়ুমণ্ডল শোষণ করে নেয় বলে আমরা ভোরের সূর্যকে লাল দেখি।
৩. বিজ্ঞানী: উত্তর: যাঁরা প্রকৃতির নানা রহস্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করেন। তাঁদের বিজ্ঞানী বলা হয়। স্যার আইজাক নিউটন ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম একজন মহান বিজ্ঞানী।
৪. গুহা: উত্তর: পাহাড় বা পাথরের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া বড় ফাঁকা জায়গাকে গুহা বলে। আদিম মানুষেরা ঘরবাড়ি বানানোর আগে রোদ, বৃষ্টি ও বন্য প্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে গুহায় বসবাস করত।
৫. আদিম মানুষ: উত্তর: পৃথিবীর শুরুতে যেসব মানুষ বনে-জঙ্গলে ও গুহায় বাস করত। তাদেরকে আদিম মানুষ বলা হয়। রঙের প্রতি তাদেরও অনেক আকর্ষণ ছিল, তারা গুহার গায়ে রঙিন ছবি আঁকত।
৬. আবিষ্কার: উত্তর: অজানা কোনো তথ্য বা নতুন কোনো প্রয়োজনীয় যন্ত্র খুঁজে বের করাকে আবিষ্কার বলে। যেমন—বিজ্ঞানী নিউটনের আলোর সাতটি রঙের রহস্য আবিষ্কার করেছিলেন।
রংভেদে বিভিন্ন জিনিসের তালিকা প্রস্তুত করো
| রঙের নাম | জিনিসের নাম (তালিকা) |
|---|---|
| ১. সাদা | দুধ, চক, সাদা মেঘ, বক |
| ২. লাল | রক্ত, জবা ফুল, পাকা টমেটো, সিঁদুর |
| ৩. কালো | চুল, কাক, ব্ল্যাকবোর্ড, কয়লা |
| ৪. নীল | নীল, আকাশ, অপরাজিতা ফুল, সমুদ্রের জল |
| ৫. হলদে | হলুদ, সর্ষে ফুল, পাকা কলা, গাঁদা ফুল |
| ৬. সবুজ | ঘাস, গাছের পাতা, টিয়া পাখি |
ঘ - প্রকল্প: কী হয় দেখো এবং খাতায় লেখো
| কাজের বিবরণ | দেখতে কেমন লাগবে (ফলাফল) |
|---|---|
| ১. চুনের জলের সঙ্গে হলুদ মেশালে | হলুদ রং বদলে গাঢ় লাল বা লালচে হয়ে যাবে। |
| ২. হলুদ জলের সঙ্গে সাবান মেশালে | জলের রং লালচে-বাদামি হয়ে যাবে। |
| ৩. পুঁই শাকের লাল বীচি হাতে মাখলে | হাতের তালু সুন্দর লালচে-বেগুনি রঙের হয়ে যাবে। |
| ৪. মেহেন্দি পাতা বেটে হাতে লাগালে | হাত গাঢ় কমলা বা লালচে রঙের হয়ে উঠবে। |
অতিরিক্ত কিছু প্রশ্ন দিলাম:
প্রশ্ন ১: স্যার আইজাক নিউটন কত সালে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন? উত্তর: স্যার আইজাক নিউটন ১৬৪২ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৭২৭ সালের ২০ মার্চ তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
প্রশ্ন ২: আমরা ব্ল্যাকবোর্ড বা স্লেটকে কালো দেখি কেন? উত্তর: ব্ল্যাকবোর্ড বা স্লেটের ওপর আলো পড়লে সেটি আলোর সব রং শোষণ করে নেয়। এজন্যই কোনো রং আমাদের চোখে প্রতিফলিত হয়ে ফেরে না। তাই আমরা সেগুলোকে কালো দেখি।
প্রশ্ন ৩: মৌমাছিরা কোন রং চিনতে পারে না? উত্তর: মৌমাছিরা লাল রং চিনতে পারে না, তবে তারা অতি-বেগুনি (Ultra-Violet) রং দেখতে পায়।
আরও পড়তে পারো:
আগের পাঠ: পাঠ ৭ নীল পাহাড়ের দেশে প্রশ্নোত্তর
পরের পাঠ: পাঠ ৯ রচনা লেখার চাবিকাঠি প্রশ্নোত্তর
আজকের এই আলোচনায় আমরা সূর্যের আলোর সাতটি রং এবং স্যার নিউটনের রঙের রহস্য সম্পর্কে জানলাম। তোমরা পঞ্চম শ্রেণি বাংলা পাঠ ৮ রঙের রহস্য প্রশ্ন উত্তর গুলো সুন্দরভাবে খাতার মধ্যে লিখে নিবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন