সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রচনা লেখার চাবিকাঠি প্রশ্ন উত্তর: পঞ্চম শ্রেণি বাংলা পাঠ ৯ | SCERT Assam Class 5


রচনা লেখার চাবিকাঠি Class 5 chapter 9

কোনো জীবজন্তু বা জিনিস সম্পর্কে নিজের ভাষায় সুন্দর করে লেখার নামই হলো রচনা। পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে আজকের এই লেখায় পঞ্চম শ্রেণি বাংলা "রচনা লেখার চাবিকাঠি" পাঠ ৯ এর সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

পাঠ ৯ রচনা লেখার চাবিকাঠি পাঠের মূল কথা

পথে মনু নামের একটি গোরু আর ভানু নামের একটি ঘোড়ার হঠাৎ দেখা হয়। কুশল বিনিময়ের পর দুজনের মধ্যে কে বেশি শ্রেষ্ঠ। সেই বিষয় নিয়ে তর্ক শুরু হয়ে যায়। মনু জানায় যে তার দুটো শিং আছে, তার দুধ খেয়ে মনিবের ছেলেমেয়েরা পুষ্টি পায় এবং সে চাষবাসের কাজেও লাগে। অন্যদিকে ভানু জানায় যে তার ঘাড়ে সুন্দর কেশর অর্থাৎ লম্বা চুল আছে, সে মনিবের গাড়ি টানে এবং তাকে পিঠে নিয়ে খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে।

এমন সময় তাদের মনিব সেখানে এসে উপস্থিত হলে দুজনের লড়াই থেমে যায়। মনু ও ভানুর এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে আমরা আসলে গোরু ও ঘোড়ার শারীরিক গঠন, খাবার এবং উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারি। যা আমাদের যেকোনো বিষয়ে গুছিয়ে রচনা লেখার কৌশল শিখিয়ে দেয়।

পাঠ ৯ রচনা লেখার চাবিকাঠি প্রশ্ন উত্তর -

ক - পাঠভিত্তিক ক্রিয়াকলাপ

পাঠের সাহায্য নিয়ে ঘোড়ার বিষয়ে লেখো: উত্তর: ঘোড়া একটি অতি পরিচিত গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী। ওর চারটে শক্ত পা, দুটো চোখ, দুটো খাড়া কান এবং একটি নাক আছে। ঘোড়ার মুখটা লম্বাটে এবং মাথায় কোনো শিং থাকে না। ওর ঘাড়ে ঢেউয়ের মতো সুন্দর কেশর থাকে এবং লেজটি একগুচ্ছ লম্বা চুল দিয়ে তৈরি। 

ঘোড়ার গায়ের রং সাধারণত বাদামি, সাদা, কালো বা ধূসর হয়। কচি ঘাস, ছোলা এবং কলাই খেয়ে ঘোড়া বেঁচে থাকে। সে খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে, মানুষের গাড়ি টানে এবং সৈনিকেরা ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করে।

উত্তর দাও

(ক) মনু আর ভানুর মধ্যে কী নিয়ে লড়াই শুরু হয়? উত্তর: মনু আর ভানুর মধ্যে কে বেশি ভালো বা শ্রেষ্ঠ, তা নিয়ে লড়াই শুরু হয়।

(খ) ভানুকে পেলে কে আহ্লাদে আটখানা হন? উত্তর: ভানুর মনিবের সৈনিক বন্ধুটি ভানুকে পেলে আহ্লাদে আটখানা হন অর্থাৎ খুব খুশি হন।

(গ) দুজনের লড়াই কেন থেমে যায়? উত্তর: মনু ও ভানুর তর্কের মাঝখানে তাদের মনিব সেখানে এসে উপস্থিত হওয়ায় দুজনের লড়াই থেমে যায়।

উত্তর লেখো

(ক) গোরু ও ঘোড়ার আকৃতি ও স্বভাবের কী কী মিল এবং কী কী অমিল আছে? উত্তর: গোরু ও ঘোড়ার আকৃতি ও স্বভাবের মিল এবং অমিলগুলো নিচে দেওয়া হলো:
  • মিল: গোরু ও ঘোড়া দুজনেরই চারটে পা, দুটো চোখ, দুটো কান, একটি নাক ও লম্বাটে মুখ আছে। এরা দুজনেই শান্ত স্বভাবের গৃহপালিত প্রাণী এবং কচি ঘাস খেতে ভালোবাসে।
  • অমিল: ১) গোরুর মাথায় দুটো শিং থাকে ও সে শিং দিয়ে গুঁতোয়, কিন্তু ঘোড়ার শিং নেই। ২) গোরুর লেজ লিকলিকে ও মাথায় একগুচ্ছ চুল থাকে, আর ঘোড়ার পুরো লেজটাই লম্বা চুল দিয়ে তৈরি এবং ঘাড়ে কেশর থাকে। ৩) গোরুর চেয়ে ঘোড়া অনেক দ্রুত দৌড়াতে পারে।
(খ) গোরু ও ঘোড়া মানুষের কী কী উপকার সাধন করে? উত্তর: গোরু ও ঘোড়া মানুষের নানাভাবে উপকার করে:
  • গোরুর উপকারিতা: গোরু আমাদের পুষ্টিকর দুধ দেয়। কৃষকের চাষবাসের কাজে গোরু সাহায্য করে। এছাড়া গোরুর গোবর দিয়ে জ্বালানির ঘুঁটে এবং জমির জন্য ভালো সার তৈরি হয়।
  • ঘোড়ার উপকারিতা: ঘোড়া মানুষকে পিঠে বসিয়ে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায় । ঘোড়ার গাড়ি টানে এবং সৈনিকদের যুদ্ধের কাজেও ঘোড়া বিশেষভাবে সাহায্য করে।

শব্দ-সম্ভারের সাহায্য নিয়ে নিচের শব্দগুলোর অর্থ লেখো

মূল শব্দ শব্দের অর্থ
১. শ্রেষ্ঠত্ব সবার চেয়ে সেরা
২. গুচ্ছ আঁটি বা গোছা
৩. ধূসর ছাই রঙের মতো বা মেটে রং
৪. আহ্লাদ আনন্দ বা খুশি
৫. ঘুঁটে শুকনো গোবর দিয়ে তৈরি জ্বালানি
৬. কেশর সিংহ বা ঘোড়ার ঘাড়ের লম্বা চুল
৭. কলাই এক প্রকার ডাল বা শস্যদানা
৮. মনিব মালিক বা প্রভু
৯. পাটকিলে পাকা ইটের মতো লালচে-বাদামি রং
১০. স্বতন্ত্র আলাদা / ভিন্ন

খ - ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ): যুক্তবর্ণ ভেঙে দুটি করে শব্দ গঠন করো

মূল শব্দ ও যুক্তবর্ণ ভাঙা রূপ ও দুটি নতুন শব্দ
১. গন্ধ (ন্ধ) ন্ + ধ — অন্ধ, বন্ধন
২. অঙ্গ (ঙ্গ) ঙ্ + গ - মঙ্গল, সঙ্গীত
৩. বুদ্ধি (দ্ধ) দ্ + ধ — শুদ্ধ, যুদ্ধ
৪. বিশ্বাসী (শ্ব) শ্ + ব :  বিশ্ব, ঈশ্বর
৫. জন্তু (ন্ত) ন্ + ত — শান্ত, অন্তর

অর্থ জেনে নিয়ে প্রত্যেকটি দিয়ে একটি করে বাক্য রচনা করো

মূল শব্দ বাক্য রচনা
১. একগুচ্ছ বাগান থেকে একগুচ্ছ তাজা ফুল তুলে আনলাম।
২. লিক-লিকে গোরুর লম্বা লেজটি দেখতে বেশ লিক-লিকে।
৩. নাদুস-নুদুস দুধ-ভাত খেয়ে কুকুরছানাটি নাদুস-নুদুস হয়ে উঠেছে।
৪. লম্বা-লম্বা আমাদের স্কুলের সামনে লম্বা-লম্বা নারকেল গাছ আছে।
৫. চাষ-বাস গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষ-বাস করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
৬. ছেলে-মেয়ে বিকেলে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা একসাথে মাঠে খেলা করে।
৭. আহ্লাদে আটখানা গল্পের বই উপহার পেয়ে বোনটি আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেল।
৮. মনিব-বউ মনিব-বউ গোবর দিয়ে জ্বালানির জন্য ঘুঁটে তৈরি করেন।
৯. কচি-কচি বাছুরটি মাঠে কচি-কচি সবুজ ঘাস খাচ্ছে।
১০. ঘন-বাদামি ঘোড়াটির গায়ের রং সুন্দর ঘন-বাদামি।

বিরাম চিহ্ন ও হাইফেনযুক্ত শব্দ

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে নির্দিষ্ট স্থানে বিরাম চিহ্ন বসাও: উত্তর: মানুষ ঘোড়া পোষে। ওর চারটা পা, দুটি চোখ, দুটি খাড়া কান, একটি দীর্ঘ চুলবিশিষ্ট লেজ আছে। ঘাড়েও রয়েছে চমৎকার কেশর। এর গায়ের রঙ সাদা, কালো, ধূসর, বাদামি। ঘোড়া ঘাস, ছোলা, কলাই খেয়ে বেঁচে থাকে। ঘোড়া গাড়ি টানে। সৈনিক ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করে।

পাঠের হাইফেন (-) যুক্ত শব্দগুলো বেছে নিয়ে লেখো: উত্তর: সুখ-দুঃখ, শক্ত-শক্ত, সে-লেজের, লম্বা-লম্বা, লিক-লিকে, ঘন-বাদামি, ছেলে-মেয়েরা, নাদুস-নুদুস, মনিব-বউ, কচি-কচি, এ-ছাড়া, মনু-ভানুর।

গ - জ্ঞান-সম্প্রসারণ: এককথায় প্রকাশ করো

বাক্যাংশ এককথায় উত্তর
১. যে প্রাণীর চারটি পা আছে চতুষ্পদ
২. যে প্রাণী মাংস খায় মাংসাশী
৩. যে প্রাণী তৃণ খেয়ে বেঁচে থাকে তৃণভোজী
৪. যে প্রাণীকে গৃহে পালন করা হয় গৃহপালিত
৫. যে ব্যক্তি নগরে থাকে নাগরিক
৬. পরের উপকার করে যে পরোপকারী
৭. কোন ঋতুতে ঠান্ডা পড়ে শীতকাল
৮. কোন ঋতুতে গরম পড়ে গ্রীষ্মকাল

প্রাণীদের বাসস্থানের নাম পাশের থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো

প্রাণীর নাম বাসস্থানের নাম
১. গোরু গোয়াল
২. পাখি গাছ / কোটর
৩. পায়রা খোপ
৪. বাঘ গুহা
৫. ঘোড়া আস্তাবল

দলে আলোচনা করে 'ছাগল' বিষয়ে নিচের তালিকাটি পূর্ণ করো

আলোচনার বিষয়বস্তু ছাগল সম্পর্কিত বিবরণ
ক) বাসস্থান খোঁয়াড় বা মানুষের বাড়ির চালাঘরে থাকে।
খ) গৃহপালিত/বন্য গৃহপালিত প্রাণী, তবে পাহাড়ে বন্য ছাগলও দেখা যায়।
গ) আকৃতি (শরীরের গঠন) আকারে ছোটো চতুষ্পদ প্রাণী। চারটি পা, দুটি ছোটো শিং, দুটি ঝুলে থাকা কান ও একটি ছোটো লেজ আছে।
ঘ) বর্ণ (কী কী রঙের থাকে) সাদা, কালো, বাদামি এবং সাদা-কালো মিশ্র রঙের হয়।
ঙ) প্রকার দেশি ছাগল, পাহাড়ি ছাগল ইত্যাদি বিভিন্ন জাতের হয়।
চ) খাদ্য কচি ঘাস, গাছের পাতা, কাঁঠাল পাতা ও ভুসি।
ছ) প্রকৃতি (স্বভাব) শান্ত ও নিরীহ স্বভাবের প্রাণী, ছোটাছুটি করতে ভালোবাসে।
জ) উপকারিতা পুষ্টিকর দুধ ও মাংস দেয়; এর মল জমির ভালো সার হিসেবে কাজ করে।
ঝ) অপকারিতা (যদি আছে) ছাড়া পেলে অনেক সময় বাগানের ফুল ও সবজি গাছ খেয়ে নষ্ট করে।
ঞ) তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব নিয়মিত খাবার ও জল দেওয়া, পরিষ্কার জায়গায় রাখা । এছাড়াও অসুখ হলে চিকিৎসা করানো আমাদের দায়িত্ব।

কোন জন্তুর কী খাবার তা রেখা টেনে মেলাও (আমরা মিলিয়ে দিয়েছি)

জন্তু বা প্রাণীর নাম সঠিক খাবার
১. গোরু ঘাস
২. বিড়াল মাছ
৩. বাঘ মাংস
৪. পাখি শস্যের দানা
৫. হাতি কলাগাছ

পারিবারিক সম্বন্ধগুলো বুঝে নিয়ে লেখো : (বানান গুলো কিন্তু ভালোভাবে দেখবে)

পারিবারিক সম্পর্ক সম্বন্ধের নাম
(ক) বাবার বড়ো ভাই জ্যেঠামশাই
(খ) বাবার বড়ো ভাইয়ের স্ত্রী জ্যেঠিমা
(গ) বাবার ছোটো ভাই কাকা 
(ঘ) বাবার ছোটো ভাইয়ের স্ত্রী কাকিমা
(ঙ) বাবার বোন/দিদি পিসিমা
(চ) বাবার বোন/দিদির স্বামী পিসেমশাই 
(ছ) মায়ের ভাই/দাদা মামা
(জ) মায়ের ভাই/দাদার স্ত্রী মামি
(ট) মার বোন/দিদি মাসি
(ঠ) মার বোন/দিদির স্বামী মেশো

নিচের শব্দগুলো দিয়ে পাঁচটি করে বাক্য রচনা করো

১. কুকুর: উত্তর:
  1. কুকুর একটি অতি পরিচিত গৃহপালিত প্রাণী।
  2. ওর চারটি পা, দুটি কান ও একটি বাঁকা লেজ আছে।
  3. কুকুর ভাত, রুটি, দুধ ও মাংস খেতে ভালোবাসে।
  4. সে খুব প্রভুভক্ত প্রাণী এবং রাতে আমাদের বাড়ি পাহারা দেয়।
  5. অচেনা লোক দেখলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ডাকে।
২. গোলাপ: উত্তর:
  1. গোলাপ একটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুগন্ধি ফুল।
  2. গোলাপ গাছের ডালে ছোটো ছোটো কাঁটা থাকে।
  3. লাল, সাদা, গোলাপি ও হলুদ রঙের গোলাপ দেখা যায়।
  4. গোলাপের পাপড়ি দিয়ে গোলাপজল ও আতর তৈরি হয়।
  5. সৌন্দর্যের জন্য গোলাপকে ফুলের রানি বলা হয়।
৩. ধান: উত্তর:
  1. ধান হলো আমাদের প্রধান কৃষিজ ফসল।
  2. ধানের চারা সবুজ রঙের হয় এবং পাকা ধান সোনালি দেখায়।
  3. ধান থেকে চাল তৈরি করা হয়, যা থেকে ভাত রান্না হয়।
  4. ধান থেকে চিঁড়ে, মুড়ি ও খই তৈরি করা হয়।
  5. ধান গাছের শুকনো খড় গোরুর প্রধান খাবার এবং ঘরের চাল ছাওয়ার কাজে লাগে।
৪. কাগজ: উত্তর:
  1. পড়াশোনা ও লেখার জন্য কাগজ একটি অতি প্রয়োজনীয় জিনিস।
  2. বাঁশ, কাঠ ও ঘাস দিয়ে কারখানায় কাগজ তৈরি করা হয়।
  3. বই, খাতা ও খবরের কাগজ সবই কাগজ দিয়ে তৈরি।
  4. রঙিন কাগজ দিয়ে ঘর সাজানোর সুন্দর ফুল ও মালা তৈরি করা যায়।
  5. আমাদের কখনোই অকারণে কাগজ ছিঁড়ে অপচয় করা উচিত নয়।
৫. লোহা: উত্তর:
  1. লোহা একটি অত্যন্ত শক্ত, ভারী ও প্রয়োজনীয় ধাতু।
  2. খনি থেকে মাটির নিচে থাকা কাঁচা লোহা তোলা হয়।
  3. দা, কাস্তে, কুড়ুল ও হাতুড়ির মতো যন্ত্রপাতি লোহা দিয়ে তৈরি হয়।
  4. ঘরবাড়ি, সেতু এবং গাড়ি তৈরিতে প্রচুর লোহা কাজে লাগে।
  5. জলে বা ভিজে বাতাসে দীর্ঘদিন থাকলে লোহায় মরচে পড়ে।

ছক থেকে জীব-জন্তুর নাম, উপদেশ ও ধাঁধা

নিচের ছকে অনেকগুলো জীব-জন্তুর নাম লুকিয়ে আছে, খুঁজে বের করো: উত্তর: ছাগল, ভেড়া, বলদ, বিড়াল, গন্ডার, বাঁদর, হাতি, কুকুর, ময়ূর, মোরগ ও পায়রা।

দুজন বন্ধুর মধ্যে যদি কোনো কিছু নিয়ে বিবাদ হয়, তবে তুমি তাদের কী উপদেশ দেবে? উত্তর: দুজন বন্ধুর মধ্যে ঝগড়া হলে আমি তাদের শান্ত হতে বলব। তাদের বোঝাব যে প্রত্যেকেরই নিজস্ব গুণ ও গুরুত্ব আছে। তাই নিজেদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিবাদ না করে মিলেমিশে থাকা উচিত।

ধাঁধা (প্রশ্ন পড়ে প্রথমে নিজে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো)

ধাঁধা সঠিক উত্তর
(ক) ফরসা সাহেবেরা কালো টুপি পরে, একবার ঘসে দিলে উঠে যে জ্বলে। দেশলাই কাঠি
(খ) বড়ো একটি পুকুরের ছোটো দুটি ঘাটে, বত্রিশটি কলাগাছ, একটি পাতা তাতে। মুখ, বত্রিশটি দাঁত ও জিভ

পাঠের ছবিগুলো দেখে সেগুলোর বিষয়ে তিনটি করে বাক্য লেখো

বাক্য রচনা করো

১. বাবুই পাখির ছবি:উত্তর: বাবুই পাখি তালগাছ বা খেজুর গাছের পাতায় ঝুলন্ত বাসা বোনে। নিপুণভাবে সুন্দর বাসা তৈরি করার জন্য বাবুই পাখিকে 'শিল্পী পাখি' বলা হয়। এরা খড়কুটো ও ঘাসের পাতা দিয়ে নিজেদের বাসা তৈরি করে।

২. পাখি ও তার ছানাদের ছবি: উত্তর: গাছের ডালে ছোটো একটি বাসায় দুটি পাখির ছানা বসে আছে। মা পাখিটি ঠোঁটে করে ছানাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছে। ছানারা মায়ের কাছ থেকে খাবার খাওয়ার জন্য মুখ হাঁ করে আছে।

৩. কাঠঠোকরা পাখির ছবি: উত্তর: কাঠঠোকরা পাখিটি গাছের গুঁড়িতে বসে আছে। এদের ঠোঁট খুব শক্ত ও লম্বা হয়। এরা ঠোঁট দিয়ে গাছের গায়ে ঠুকরে গর্ত বা কোটর বানায় এবং পোকামাকড় ধরে খায়।

৪. বিড়ালের ছবি: উত্তর: ঝোপের সামনে একটি সুন্দর বিড়াল বসে আছে। বিড়ালের গায়ের লোম খুব নরম এবং গায়ে ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। বিড়াল দুধ ও মাছ খেতে খুব পছন্দ করে এবং বাড়ির ইঁদুর তাড়ায়।

৫. জলে হাঁসের ছবি: উত্তর: পুকুরের জলে দুটি হাঁস আনন্দে সাঁতার কাটছে। হাঁসের পায়ের আঙুলগুলো পাতলা চামড়া দিয়ে জোড়া থাকে, তাই ওরা সহজে জলে সাঁতার কাটতে পারে। হাঁস জলের পোকামাকড়, শামুক ও গুগলি খায়।

মনে রাখবে: তোমরা অনেকেই রচনা বা বাক্য লেখার সময় 'হাইফেন' (-) এবং 'ড্যাশ' (—) চিহ্নের ব্যবহার গুলিয়ে ফেলো। 'সুখ-দুঃখ' বা 'ছেলে-মেয়ে'র মতো দুটি শব্দকে জোড়া লাগাতে ছোটো চিহ্ন বা হাইফেন (-) বসে। অন্যদিকে বাক্যে ভাবের পরিবর্তন বা উদাহরণ বোঝাতে একটু লম্বা চিহ্ন বা ড্যাশ (—) ব্যবহার করা হয়।

তোমাদের জন্য আরও কিছু পাঠ:

আগের পাঠ: পাঠ ৮ রঙের রহস্য প্রশ্নোত্তর

পরের পাঠ: পাঠ ১০ তিনটি মাছের কাহিনি প্রশ্নোত্তর

 পাঠের কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন:

প্রশ্ন ১: 'রচনা' শব্দটির প্রকৃত অর্থ কী? উত্তর: পাঠ্যবই অনুযায়ী 'রচনা' শব্দটির প্রকৃত অর্থ হলো সৃষ্টি বা নতুন কিছু গড়ে তোলা।

প্রশ্ন ২: বাংলা ভাষায় প্রথম কে বিরাম চিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন? উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষায় প্রথম বিরাম চিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন। এজন্য তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়।

মনু ও ভানুর কথোপকথনের মাধ্যমে আমরা রচনা লেখার মূল নিয়ম এবং বিরাম চিহ্নের ব্যবহার শিখতে পারলাম।পঞ্চম শ্রেণি বাংলা বিষয়ের রচনা লেখার চাবিকাঠি পাঠের কোন অংশটি তোমাদের সবচেয়ে মজার লেগেছে?

শেয়ার করুন:

মন্তব্যসমূহ