সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি ফুটো কলসি প্রশ্ন উত্তর: চতুর্থ শ্রেণি বাংলা অধ্যায় ১ পাঠ ২ | Class 4 Bengali, ASSAM

চতুর্থ শ্রেণির বাংলা প্রথম অধ্যায় পাঠ ২ একটি ফুটো কলসি গল্পের জলবাহক ও মাটির কলসির দৃশ্য

কখনো কখনো আমাদের নিজেদের অজান্তেই ছোটোখাটো অনেক কাজের মধ্য দিয়ে এই প্রকৃতির বড়ো উপকার হয়ে যায়। Class 4 এর Bangla বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের পাঠ ২-তে থাকা একটি ফুটো কলসি গল্পটিতে এমনই এক চমৎকার ঘটনার কথা বলা হয়েছে। 

পাঠ ২ একটি ফুটো কলসি গল্পের সারাংশ

পাহাড়পুর গ্রামে একজন জলবাহক বাস করতেন। তাঁর বাড়ি থেকে এক মাইল দূরে থাকা নদী থেকে তিনি রোজ সকাল-সন্ধ্যায় বাঁশের লাঠির দু-মাথায় দুটি মাটির কলসি বেঁধে জল বয়ে আনতেন এবং বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। 

সবসময় একসাথে থাকতে থাকতে কলসি দুটির মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। একদিন রাস্তার পাশের গাছের ডালে ধাক্কা লেগে একটি কলসির গায়ে ছোটো ফুটো হয়ে যায়। এর ফলে নদী থেকে বাজারে বিক্রি করতে যাওয়ার পথে ওই ফুটো দিয়ে অর্ধেক জল রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে যেত।

নিজের এই অবস্থার জন্য ফুটো কলসিটি নিজেকে অনাবশ্যক ভেবে খুব দুঃখ পেল। একদিন সকালে ফুটো কলসিটি জলবাহকের কাছে কেঁদে মনের কথা জানাল। নিখুঁত কলসিটিও ভয় পাচ্ছিল যে তার বন্ধুকে হয়তো ফেলে দেওয়া হবে। 

তখন জলবাহক ব্যক্তিটি মুচকি হেসে কলসি দুটিকে নিয়ে তাঁর যাতায়াতের রাস্তার পাশে গেলেন। তিনি দেখালেন যে, ফুটো কলসিটি থেকে প্রতিদিন জল ঝরে পড়ার কারণেই রাস্তার বাঁদিকের অংশটি তরতাজা রঙিন ফুলে ভরে আছে। 

নিজের অজান্তেই ফুলগাছগুলোর এমন উপকার করতে পেরে ফুটো কলসিটির মন আনন্দে ভরে উঠল। এরপর দুই বন্ধু চিরদিন একসঙ্গে থাকার খুশিতে মেতে উঠল।

চতুর্থ শ্রেণি বাংলা পাঠ ২ একটি ফুটো কলসি প্রশ্ন উত্তর

১। শুদ্ধ উত্তরটি বেছে বের করে লেখো

(১) জলবাহক ব্যক্তি কাঁধে কলসি জোড়া বেঁধে রাস্তার কোন্ দিক দিয়ে আসা-যাওয়া করতেন? উত্তর: (গ) রাস্তার বাঁদিকে।

(২) 'বন্ধু, এখন মনটা ভালো লাগছে।' ফুটোহীন কলসিটির কখন ভালো লেগেছিল? উত্তর: (খ) যখন ফুটো কলসিটি অনাবশ্যক নয় বলে জানতে পেরেছিল।

২। নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর বলো এবং লেখো

(ক) জলবাহকের বাড়ি কোথায় ছিল? উত্তর: পাহাড়পুর নামক একটি গ্রামে জলবাহকের বাড়ি ছিল।

(খ) জলবাহকের বাড়ি থেকে নদীর ঘাটের দূরত্ব কতটুকু ছিল? উত্তর: জলবাহকের বাড়ি থেকে নদীর ঘাটের দূরত্ব ছিল মাত্র এক মাইল।

(গ) ফুটো কলসিটি কেন কেঁদেছিল? উত্তর: নদী থেকে জল ভরে বাজারে যাওয়ার পথে ফুটো কলসিটির গায়ের ছিদ্র দিয়ে অর্ধেক জল রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে যেত। নিজের এই ত্রুটির কারণে জলবাহকের পরিশ্রম বৃথা যাচ্ছে ভেবেই ফুটো কলসিটি কেঁদেছিল।

(ঘ) নিখুঁত কলসিটি কেন ভয় পাচ্ছিল? উত্তর: ফুটো হয়ে যাওয়ার কারণে সঙ্গী কলসিটি পুরো জল ধরে রাখতে পারছিল না। তাই জলবাহক কাকাবাবু যদি কোনো দিন রাগ করে ফুটো কলসিটিকে ফেলে দেন। তখন নিখুঁত কলসিটি বন্ধুহীন ও একা হয়ে পড়বে—এই ভেবে সে ভয় পাচ্ছিল।

(ঙ) জলবাহক কলসদুটিকে কেন রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়েছিলেন? উত্তর: ফুটো কলসিটির মনের দুঃখ দূর করার জন্য জলবাহক কলসদুটিকে রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে পৃথিবীতে কোনো জিনিসই অপ্রয়োজনীয় নয়। কলসির ফুটো দিয়ে পড়া জলেই রাস্তার একপাশ রঙিন ফুলে ভরে উঠেছে।

(চ) রাস্তাটির এক পাশেই কেন ফুল ফুটেছিল? উত্তর: জলবাহক ব্যক্তিটি সবসময় বাঁশের লাঠির বাঁদিকে ফুটো কলসিটিকে বেঁধে নিয়ে হাঁটতেন। ফলে নদী থেকে জল নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় কেবল রাস্তার বাঁদিকের মাটিতেই নিয়মিত জল ঝরে পড়ত। সেই জল পেয়েই শুধু ওই এক পাশেই ফুল ফুটেছিল।

৩। দল গঠন করে আলোচনা করো এবং উত্তর দাও

(ক) জলবাহক, ফুটো কলসি ও ফুটোহীন কলসির মধ্যে কোন্ চরিত্রটি তোমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এবং কেন? উত্তর: এই তিনটি চরিত্রের মধ্যে জলবাহক ব্যক্তির চরিত্রটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে। কারণ তিনি অত্যন্ত দয়ালু, ধৈর্যশীল এবং ইতিবাচক মনের মানুষ ছিলেন। কলসিটি ফুটো হয়ে অর্ধেক জল নষ্ট হওয়ার পরেও তিনি সেটিকে ফেলে দেননি। বরং আদর করে রাস্তার পাশের ফুলগুলো দেখিয়ে কলসিটির মনের কষ্ট দূর করে দিয়েছিলেন।

(খ) ফুটো কলসিটি নিখুঁত কলসিটির একজন ভালো বন্ধু ছিল- এ-কথাটি গল্পের কোন্ জায়গা থেকে তুমি বুঝতে পেরেছ? উত্তর: গল্পের শুরু থেকেই দেখা যায় সুখে-দুঃখে একসাথে থাকতে থাকতে কলসি দুটির মধ্যে গভীর টান তৈরি হয়েছিল। ফুটো কলসিটির কষ্ট দেখে নিখুঁত কলসিটির মন খারাপ হয়ে যেত এবং বন্ধুকে হারানোর ভয়ে সে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। 

আবার শেষে যখন ফুটো কলসিটি নিজের কাজের মূল্য বুঝতে পেরে খুশি হলো। তখন তার আনন্দ দেখে নিখুঁত কলসিটির মনও ভালো হয়ে গেল। এই ঘটনাগুলো থেকেই তাদের খাঁটি বন্ধুত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

৪। শব্দগুলোর অর্থ পাশের কলসি থেকে খুঁজে বের করে লেখো

বাংলা পাঠ্যবইয়ের খুঁজে বের করে অর্থ লিখো
     • জলবাহক: ভারী, বাঁকবাহক
  • উপার্জন — রোজগার করা
  • রঙিন - রংযুক্ত
  • অনাবশ্যক - কোনো কাজে প্রয়োজনীয় নয়
  • প্রতিদিন- নিত্যদিন, সবসময়

ভাষা-অধ্যয়ন: পদ ও বাক্য গঠন

৫। (ক) নীচে প্রদত্ত বাক্য দুটির পদগুলো পৃথক পৃথক করে লেখো:
  • অনেকদিন আগেকার কথা: অনেকদিন, আগেকার, কথা।
  • একটি কলসির গায়ে ফুটো হয়ে যায় — একটি, কলসির, গায়ে, ফুটো, হয়ে, যায়।
৫। (খ) এলোমেলো পদগুলো সঠিক স্থানে বসিয়ে শুদ্ধ বাক্য লেখো:
  • ভালো একটি ছেলে মলয় - মলয় একটি ভালো ছেলে।
  • শ্রেণিতে চতুর্থ পড়ে সে | সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
জরুরি নোট: বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি অর্থপূর্ণ শব্দকেই একেকটি 'পদ' বলা হয়। আর মাটি দিয়ে যাঁরা হাঁড়ি, কলসি বা নানা সামগ্রী তৈরি করেন তাঁদের কুম্ভকার বা কুমোর (মৃৎশিল্পী) বলা হয়। তাঁদের মাটির জিনিস বানানোর ঘুরন্ত চাকাটিকে বলা হয় 'কুমোরের চাক'।

এসো ভাবি ও প্রকল্পের কাজ

৬। (ক) জল আনা ও রাখা ছাড়া আর কী কী কাজে কলসি ব্যবহার করা হয়? উত্তর: জল আনা ও রাখা ছাড়াও মাটির কলসি গ্রামে চাল, ডাল বা শুকনো শস্য সংরক্ষণ করে রাখতে এবং শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা হয়।

 এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক উৎসব-অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার কাজে এবং বাড়ির চালে বা গাছের ডালে বেঁধে শালিক ও চড়ুই পাখির বাসা তৈরির কাজেও কলসি ব্যবহৃত হয়।

৬। (খ) কলসি ছাড়া আর কী কী মৃৎপাত্র আমরা ব্যবহার করি এবং এগুলো কী কী কাজে ব্যবহৃত হয়? উত্তর: কলসি ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত কয়েকটি মৃৎপাত্র বা মাটির পাত্র হলো:
  • মাটির হাঁড়ি ও সরা: রান্না করার কাজে এবং দই ও মিষ্টি রাখার কাজে লাগে।
  • মাটির টব - বাড়ির উঠোনে বা বারান্দায় ফুল ও ফলের চারাগাছ লাগানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • মাটির ভাঁড় বা খুরি - চা, লস্যি বা জল পান করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৭। আমরা আমাদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে পরিবেশকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করি। এধরনের কিছুসংখ্যক কাজের বিষয়ে নীচের তালিকায় লেখো (আমি প্রকৃতিকে ভালোবাসি। তাই আমি-):
  • বিনা কারণে গাছের ডাল, পাতা ছিঁড়ি না।
  • বাড়ির ফাঁকা জায়গায় নতুন চারাগাছ লাগাই। এছাড়াও নিয়মিত সেগুলোর গোড়ায় জল দিই।
  • প্লাস্টিক বা কাগজের টুকরো যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট আবর্জনার পাত্রে ফেলি।
  • গরমের দিনে পাখিদের তৃষ্ণা মেটাতে বারান্দায় মাটির সরায় জল ও খাবার রেখে দিই।

৮। তোমার চারপাশের কী কী জিনিস তোমার বেশি ভালো লাগে এবং কেন ভালো লাগে? লেখো। উত্তর: আমাদের চারপাশের প্রকৃতির সবুজ গাছপালা, বাগানের রঙিন ফুল, নদীর স্বচ্ছ জল এবং পাখির ডাক সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। গাছ আমাদের শীতল বাতাস ও ফলমূল দেয়। রঙিন ফুল চারপাশের পরিবেশকে সুন্দর করে তোলে আর পাখিদের মিষ্টি ডাক মনকে আনন্দে ভরিয়ে রাখে।

৯। নীচের ছবিটি দেখে এবং ছবিতে বর্ণিত বিষয়টি নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ প্রস্তুত করো।

ছবিটি দেখে বর্ণিত বিষয়টি নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ প্রস্তুত করো
উত্তর: পাঠ্যবইয়ের ছবিটিতে পশু-পাখির প্রতি ছোটোদের ভালোবাসা ও যত্নের একটি সুন্দর দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি মেয়ে গাছের ডালে পাখিদের থাকার জন্য কাঠের তৈরি একটি ছোটো ঘর বসিয়ে দিচ্ছে। পাশের দৃশ্যে ঘরের চালের বাঁশের সাথে একটি পুরোনো মাটির কলসি দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ভেতরে পাখি নিরাপদে বাসা বেঁধেছে। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে মাটির পাত্রে করে পরম আদরে সেই পাখিদের খাবার খাওয়াচ্ছে। 

১০ ও ১১। বর্জ্য পদার্থ দিয়ে ফুলের টব সাজানো এবং মাটি দিয়ে পছন্দের ফল তৈরি (প্রকল্প): উত্তর: বাড়িতে থাকা চায়ের ভাঙা কাপ বা পুরোনো প্লাস্টিকের কৌটোর গায়ে তুলি দিয়ে সুন্দর আলপনা বা নকশা এঁকে নেবে। এরপর তার ভেতরে চামচ দিয়ে ঝুরঝুরে মাটি ও সার ভরে একটি ছোটো ফুলের চারা লাগিয়ে নিলেই ছবির মতো চমৎকার ফুলের টব তৈরি হয়ে যাবে। 

একইভাবে নরম এঁটেল মাটি বা বাজারের ক্লে দিয়ে আম, কলা বা আপেলের আকৃতি গড়ে রঙ করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে দেখাতে পারো।

একটি ফুটো কলসি পাঠের অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর

১। কলসিটির গায়ে কীভাবে ফুটো হয়েছিল? উত্তর: একদিন নদী থেকে জল নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের ডালে আঘাত লেগে কলসিটির গায়ে ছোটো ফুটো হয়ে গিয়েছিল।

২। মৃৎশিল্পীরা কীভাবে মাটির পাত্র ব্যবহারের উপযোগী করে তোলেন? উত্তর: মৃৎশিল্পীরা আঠালো মাটির সাথে জল মিশিয়ে থকথকে কাদা তৈরি করেন এবং কুমোরের চাকে ঘুরিয়ে পাত্রের আকার দেন। এরপর সেগুলো রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত ও ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়।

৩। বাক্য কাকে বলে? উত্তর: এক বা একাধিক পদ একসঙ্গে বসে যখন মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে, তখন তাকে বাক্য বলে।

আগের পাঠ: তালগাছ প্রশ্নোত্তর

পরের পাঠ: পিতা-মাতা প্রশ্নোত্তর

Class 4 Bangla একটি ফুটো কলসি পাঠের Question Answer গুলো লেখার সময় বাক্য থেকে পদ আলাদা করার নিয়মগুলো ভালোভাবে চর্চা করবে।

শেয়ার করুন:

মন্তব্যসমূহ