‘চরণে প্রণাম’ কবিতাটিতে একটি ছোট মেয়ের সঙ্গে পাখি, ফুল ও প্রকৃতির মধ্যে কথোপকথনের একটা ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এটি বিশিষ্ট কবি যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর লেখা। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে কবিতাটির সহজ ব্যাখ্যা, প্রশ্নোত্তর, শব্দার্থ, ব্যাকরণ ও অনুশীলনীর উত্তরগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
সহজ ভাষায় পাঠটি
একটি ছোট মেয়ে একটি ছোট পাখিকে জিজ্ঞেস করল, "হে ছোট পাখি, তুমি আমাকে বলো তো, এত সুন্দর আর মিষ্টি গান গাওয়া তুমি কোথায় থেকে শিখেছ?" পাখিটি তখন উত্তর দিল, "যাঁর দয়ায় আমি এই জীবন পেয়েছি, তিনিই আমাকে এত সুন্দর গান দিয়েছেন এই ছোট্ট গলায়।"
এবার মেয়েটি একটি লাল টকটকে ফুলকে প্রশ্ন করল, "লাল ফুল, তোমার এই ছোট্ট কচি মুখটাতে এত সুন্দর হাসি কে ফুটিয়ে তুলেছে?" তখন ফুলটি উত্তর দিল, "যিনি এই পৃথিবীর সমস্ত জল আর মাটি তৈরি করেছেন, তিনিই আমার মুখে এই সুন্দর হাসি দিয়েছেন।"
মেয়েটি এবার একটি ছোট খুকুমণিকে জিজ্ঞেস করল, "ছোট খুকুরানি, রাতে কি তুমি বিছানায় একদম একা একা ঘুমাও? তোমার ভয় করে না?" খুকু তখন জবাব দিল, "না, আমি একদম একা থাকি না। এই পুরো পৃথিবীর যিনি মা বা জগৎ-জননী (ঈশ্বর), তিনি নিজেই এসে রাতে আমার মাথার কাছে বসে আমাকে পাহারা দেন।"
সবাইকে প্রশ্ন করার পর মেয়েটি শেষে বলল, "ফুল, পাখি আর খুকুমণি, তোমরা সবাই আজ আমাকে কত সুন্দর কথাগুলো শোনালে! আমাদের সবার জন্য যাঁর মনে এত ভালোবাসা, যিনি পাখিকে গান দিলেন, ফুলকে হাসি দিলেন আর খুকুকে পাহারা দিলেন—সেই ঈশ্বরের পায়ে আমার কোটি কোটি প্রণাম।"
কঠিন শব্দের সহজ অর্থ
| শব্দ | সহজ অর্থ |
|---|---|
| কৃপা | দয়া |
| ক্ষুদ্র | ছোট |
| শিয়রে | মাথার কাছে |
| জগৎ | পৃথিবী / বিশ্ব |
| জননী | মা |
| স্থল | মাটি / ভূমি |
| অন্ধকার | আলোহীন অবস্থা |
| খুকুরানি | ছোট মেয়ে / শিশু |
| রাঙা | লাল বা রঙিন |
| কোটি | একশো লাখ |
| কটি | কোমর |
| প্রণাম | শ্রদ্ধা জানানো |
বইয়ের সব প্রশ্নের উত্তর
ক) পাঠভিত্তিক প্রশ্ন
১। ছোটো পাখি কোথা থেকে মিষ্টি গান শিখলো? উত্তর: ছোটো পাখি ঈশ্বরের কৃপায় মিষ্টি গান শিখলো। সেই ছোট কণ্ঠে গান গাওয়ার শক্তিও সে পেয়েছে তাঁরই দয়ায়।
২। রাঙা ফুলের মুখে হাসি কে দিয়েছেন? উত্তর: যিনি জল-স্থল সবকিছু তৈরি করেছেন, তিনিই রাঙা ফুলের মুখে হাসি দিয়েছেন।
৩। খুকুরানির বিছানায় শিয়রের কাছে কে বসে থাকেন? উত্তর: জগৎ-জননী খুকুরানির শিয়রে বসে থাকেন।
বইয়ে দেওয়া শব্দগুলোর অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| কৃপা | দয়া |
| ক্ষুদ্র | ছোট |
| শিয়রে | মাথার কাছে |
| স্থল | মাটি / ভূমি |
| জগৎ | বিশ্ব / পৃথিবী |
| জননী | মা |
ভাষা-অধ্যয়ন
১। বাক্য রচনা করো
- জল-স্থল: জল-স্থল সব জায়গাতেই নানা ধরনের প্রাণী বাস করে।
- খুকুরানি: খুকুরানি রাতে মায়ের কাছে ঘুমায়।
- জগৎ-জননী: জগৎ-জননী সকলকে ভালোবাসেন।
- রাঙা ফুল: বাগানে একটি রাঙা ফুল ফুটেছে।
- মিষ্টি গান: পাখিটি খুবই মিষ্টি গান গাতে পারে।
২। সমার্থক শব্দ
| শব্দ | সমার্থক শব্দ |
|---|---|
| ফুল | পুষ্প, কুসুম |
| পাখি | পক্ষী |
| জগৎ | বিশ্ব |
| অন্ধকার | আঁধার |
| রাত | রাত্রি |
ব্যঞ্জনবর্ণের বর্গ
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণকে পাঁচটি বর্গে ভাগ করা হয়। প্রতিটি বর্গে পাঁচটি করে বর্ণ থাকে। ‘ক’ দিয়ে শুরু হওয়া বর্গকে ক-বর্গ এবং ‘চ’ দিয়ে শুরু হওয়া বর্গকে চ-বর্গ বলা হয়। ঠিক একইভাবে ট, ত ও প দিয়ে শুরু হওয়া বর্গের নাম ট-বর্গ, ত-বর্গ ও প-বর্গ।
| বর্গ | বর্ণগুলো |
|---|---|
| ক-বর্গ | ক, খ, গ, ঘ, ঙ |
| চ-বর্গ | চ, ছ, জ, ঝ, ঞ |
| ট-বর্গ | ট, ঠ, ড, ঢ, ণ |
| ত-বর্গ | ত, থ, দ, ধ, ন |
| প-বর্গ | প, ফ, ব, ভ, ম |
চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার ও শব্দার্থ
চন্দ্রবিন্দু (ঁ): নাকের সাহায্যে যে শব্দগুলো উচ্চারণ করা হয়, তার ওপরে চন্দ্রবিন্দু বসে। যেমন: দাঁত, হাঁস, বাঁশ ইত্যাদি।
কিছু শব্দের অর্থ ও বাক্য:
- কোটি (একশো লাখ): এই শহরে কোটি কোটি মানুষ বাস করে।
- কটি (কোমর): শিশুটি কটি ধরে মায়ের পাশে দাঁড়াল।
- রাঙা (লাল): বাগানে একটি রাঙা ফুল ফুটেছে।
এক নজরে ‘চরণে প্রণাম’ কবিতা
ক) কবি: যোগীন্দ্রনাথ সরকার
খ) মূল বিষয়: কবিতায় ছোট পাখি, ফুল, খুকুরানি এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।
গ) বিশেষ তথ্য: খুকুরানির মাথার কাছে (শিয়রে) জগৎ-জননী বসে থাকেন।
ঘ) ব্যঞ্জনবর্ণের বর্গ: ৫টি রয়েছে (ক-বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ ও প-বর্গ)।
ঙ) প্রতীক: ঁ চিহ্নকে চন্দ্রবিন্দু বলা হয়।
পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পাঠ:
আগের পাঠ: পাঠ ১১ অমলপ্রভা দাস প্রশ্নোত্তর
পরের পাঠ: পাঠ ১৩ পালা গানের কথা প্রশ্নোত্তর
এই কবিতায় ভালোবাসা, মমতা ও শ্রদ্ধার সুন্দর ভাব প্রকাশ পেয়েছে। আশা করি তোমাদের খুব ভালো লেগেছে। আর কিছু বুঝতে সমস্যা হলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে পারো।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন