বিখ্যাত মানুষদের জীবন আমাদের সবসময় নতুন কিছু করতে উৎসাহ দেয়। আজ আমরা Class 5 বাংলা পাঠ ৫ মহৎ লোকের মহৎ কথা Question Answer গুলো তোমাদের জন্য দিয়ে দেব।
পাঠ ৫ মহৎ লোকের মহৎ কথা-এর মূল কথা (যা তোমাদের জানা খুব জরুরি!)
পাঁচজন মহান ভারতীয় ব্যক্তির জীবনের কিছু বাস্তব ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে পাঠটির মধ্যে। ডক্টর বাণীকান্ত কাকতি কীভাবে মানুষের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকে পেছনে ফেলে নিজের বুদ্ধি ও চেষ্টায় সফল হয়েছিলেন, তা আমরা এখানে জানতে পারি।
অন্যদিকে লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটবেলার প্রদীপের আলোয় পড়ার ঘটনাটি আমাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হতে শেখায়। এছাড়া ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নিজস্ব ধুতি-চাদরের প্রতি আত্মমর্যাদা এবং হাজি মহম্মদ মহসিনের গরিব বৃদ্ধার প্রতি দয়ার কথা এখানে খুব সুন্দরভাবে বলা হয়েছে।
একদম শেষে বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সাধারণ জীবনযাপন ও গরিব ছাত্রদের প্রতি ভালোবাসার কথা রয়েছে। এই মহৎ মানুষদের কাজ আমাদের সৎ ও আদর্শ মানুষ হতে সাহায্য করে।
পাঠ ৫ মহৎ লোকের মহৎ কথা প্রশ্ন উত্তর (সম্পূর্ণ সমাধান)
ক - পাঠভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর
(ক) একান্ত সাধনার ফলে মানুষ কী অর্জন করতে পারে? উত্তর: একান্ত সাধনা ও চেষ্টার ফলে মানুষ জীবনে সুখ্যাতি অর্জন করতে পারে।
(খ) নতুন ডাক্তার কাকে বলা হয়েছে? উত্তর: ডক্টর বাণীকান্ত কাকতিকে 'নতুন ডাক্তার' বলা হয়েছে।
(গ) বিভূতিভূষণ মায়ের কাছে অনুনয় বিনয় করছিলেন কেন? উত্তর: ধার করে আনা বইটি রাতেই পড়ে শেষ করার জন্য বিভূতিভূষণ তাঁর মায়ের কাছে প্রদীপে আরেকটু তেল দেওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করছিলেন। কারণ পরের দিনই বন্ধুকে বইটি ফেরত দিতে হবে।
(ঘ) হ্যালিডে সাহেব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে পোশাক পাল্টাতে হবে কেন বলেছিলেন? উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাধারণত ধুতি-চাদর আর চটিজুতো পরে থাকতেন। তাই পরের বার দেখা করতে এলে তাঁকে ইউরোপীয় পোশাক পরার জন্য হ্যালিডে সাহেব বলেছিলেন।
(ঙ) মহম্মদ মহসিন যে দয়ালু ব্যক্তি ছিলেন, তার পরিচয় দাও। উত্তর: এক রাতে একটি কুঁড়েঘরে গরিব বৃদ্ধাকে শুধু জল ফুটিয়ে নাতি-নাতনিদের শান্ত করতে দেখে মহম্মদ মহসিনের খুব কষ্ট হয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি গিয়ে তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসেন। পরে সেই পরিবারের সারাজীবনের মাসিক খরচের ব্যবস্থাও করে দেন। এ থেকেই তাঁর দয়ার পরিচয় পাওয়া যায়।
(চ) প্রফুল্লচন্দ্র রায় নিজের মাইনে থেকে মাত্র চল্লিশ টাকা রেখে বাকিটা দান করে দিতেন কেন? উত্তর: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন একজন খুব সাধারণ জীবনযাপন করা মানবদরদি শিক্ষক। গরিব ছাত্রদের পড়াশোনায় সাহায্য করার জন্য তিনি তাঁর হাজার টাকা মাইনের মাত্র ৪০ টাকা নিজের কাছে রেখে বাকি সমস্ত টাকা দান করে দিতেন।
(ছ) 'তাহলে আপনাকে কিছুই ছাড়তে হবে না, নিজের পোশাকেই আপনি আসবেন'- উক্তিটি কে, কার উদ্দেশে, কেন করেছিলেন? উত্তর: উক্তিটি গভর্নর হ্যালিডে সাহেব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্দেশে করেছিলেন।
ইউরোপীয় পোশাক পরতে বললে বিদ্যাসাগর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি নিজের ধুতি-চাদর ছাড়তে পারবেন না। তাই আর দেখাও করতে আসবেন না। তাঁর এই আত্মমর্যাদাবোধ দেখে মুগ্ধ হয়েই সাহেব এই কথাটি বলেছিলেন।
(জ) ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করার পর ডক্টর বাণীকান্ত কাকতিকে নিয়ে কী ঘটনা ঘটেছিল, সংক্ষেপে লেখো। উত্তর: বাণীকান্ত কাকতি ভাষাবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করার পর কিছু মানুষ তাঁকে ব্যঙ্গ করে রোগীদের তাঁর কাছে পাঠায়। কিন্তু বুদ্ধিমান বাণীকান্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বই কিনে এনে নিজেই চিকিৎসায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁর এই অবাক করা কাজ দেখে নিন্দুকেরা চুপ হয়ে যায় এবং তিনি সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেন।
শব্দের অর্থ লেখো
| মূল শব্দ | সঠিক অর্থ |
|---|---|
| ১. বিভ্রান্ত | দিশেহারা |
| ২. পারদর্শী | কোনো কাজে খুব দক্ষ |
| ৩. নিষ্ঠা | গভীর ভক্তি বা একাগ্রতা |
| ৪. ইতস্তত | দ্বিধা বা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া |
| ৫. মাসোহারা | মাসের খরচ বা মাসিক বেতন |
| ৬. গণ্যমান্য | সম্মানী ও বিশিষ্ট ব্যক্তি |
| ৭. তৎক্ষণাত | সেই মুহূর্তেই |
| ৮. মেধাবী | খুব বুদ্ধিমান |
| ৯. প্রখর | তীক্ষ্ণ বা তীব্র |
| ১০. নিরাময় | রোগ থেকে মুক্তি বা সুস্থ হওয়া |
| ১১. নাছোড়বান্দা | যে সহজে ছাড়তে চায় না বা জেদি |
| ১২. মহানুভব | যাঁর হৃদয় খুব বড়ো |
| ১৩. বৎসল | স্নেহশীল বা যে খুব ভালোবাসে |
খ - ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ)
| মূল শব্দ (যুক্তবর্ণ) | যুক্তবর্ণের ভাঙা রূপ |
|---|---|
| ১. নিষ্ঠা (ষ্ঠ) | ষ্ + ঠ |
| ২. বিজ্ঞানী (জ্ঞ) | জ্ + ঞ |
| ৩. ডক্টর (ক্ট) | ক্ + ট |
সর্বনাম পদ ব্যবহার করে বাক্যগুলো আবার লেখো
| মূল বাক্য | সর্বনাম পদ যুক্ত বাক্য |
|---|---|
| (ক) ডক্টর বাণীকান্ত কাকতি একজন ভাষা-বিজ্ঞানী ছিলেন। | তিনি একজন ভাষা-বিজ্ঞানী ছিলেন। |
| (খ) রহিম মনোযোগ সহকারে পড়া-শোনা করে। | সে মনোযোগ সহকারে পড়া-শোনা করে। |
| (গ) মিতা গান গাইতে ভালোবাসে। | সে গান গাইতে ভালোবাসে। |
বিপরীতার্থক শব্দ লেখো
| মূল শব্দ | বিপরীত শব্দ |
|---|---|
| ১. হেসে | কেঁদে |
| ২. শেষ | শুরু |
| ৩. গরিব | ধনী |
| ৪. অচেনা | চেনা |
| ৫. অল্প | বেশি |
এক কথায় প্রকাশ (একটি শব্দে লেখো)
| বাক্যাংশ | এককথায় উত্তর |
|---|---|
| (ক) যিনি শিক্ষাদান করেন | শিক্ষক |
| (খ) যিনি রোগীর শুশ্রূষা করেন | সেবিকা (বা নার্স) |
| (গ) যিনি ভাষা চর্চা করেন | ভাষাবিজ্ঞানী |
| (ঘ) যিনি বিজ্ঞান চর্চা করেন | বিজ্ঞানী |
বাক্য রচনা করো
গ - জ্ঞান-সম্প্রসারণ (গুরু নানক)
(ক) নানক শিক্ষককে কী প্রশ্ন করেছিলেন? উত্তর: ছোটবেলায় নানক তাঁর শিক্ষককে প্রশ্ন করেছিলেন, 'আচ্ছা ঈশ্বর যে আছেন, তার কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেন?'
(খ) শিখদের পবিত্র গ্রন্থের নাম কী? উত্তর: শিখদের পবিত্র গ্রন্থের নাম হলো 'গ্রন্থসাহেব'।
(গ) নানক তীর্থে গিয়ে কী ঝামেলায় পড়েছিলেন? উত্তর: একবার তীর্থে গিয়ে নানক পশ্চিম দিকে পা রেখে শুয়ে থাকায় এক কাজী তাঁকে পবিত্র মক্কার দিকে পা রাখার জন্য তিরস্কার করেছিলেন।
শব্দ গঠন ও ধাঁধা
- হ: হাত, হাতি, হাসি।
- ভ: ভাই, ভাত, ভারত।
- র: রাত, রাজা, রং।
- ত: তাল, তীর, তারা।
২) ধাঁধা: গাছে হয়, ঘরে আনি, রান্না হয়, খাওয়ার সময় ফেলা হয়। উত্তর: তেজপাতা।
তোমাদের জন্য আরও কিছু পাঠ:
আগের পাঠ: পাঠ ৪ পেটুক দাসের স্বপ্ন প্রশ্নোত্তর
পরের পাঠ: পাঠ ৬ অরুণোদয় প্রশ্নোত্তর
তোমাদের মনে জাগতে পারে এমন প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে হ্যালিডে সাহেব কী পরতে বলেছিলেন? উত্তর: হ্যালিডে সাহেব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ইউরোপীয় বা সাহেবি পোশাক পরতে বলেছিলেন।
প্রশ্ন ২: প্রফুল্লচন্দ্র রায় কোন বিষয়ে বিখ্যাত ছিলেন? উত্তর: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বিজ্ঞানের এক বিরাট পণ্ডিত এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিখ্যাত অধ্যাপক ছিলেন।
শেষের কিছু কথা
এই পাঠটি থেকে আমরা শিখতে পারলাম যে মহৎ মানুষরা নিজেদের আরামের কথা চিন্তা না করে সবসময় অন্যের উপকারের কথা ভাবেন। Class 5 বাংলা পাঠ ৫ মহৎ লোকের মহৎ কথা প্রশ্ন উত্তর গুলো খাতায় লিখে শিখে নিবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন