সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পেটুক দাসের স্বপ্ন প্রশ্ন উত্তর | Class 5 Bengali Chapter 4 | SCERT Assam

Class 5 Bengali Chapter 4 Question Answer

স্বাগতম পঞ্চম শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রীকে! তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে আজ আমরা অসমের SCERT-এর পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ ৪, অর্থাৎ 'পেটুক দাসের স্বপ্ন' কবিতাটির প্রশ্ন উত্তর, শব্দার্থ এবং ব্যাকরণের সহজ নোটস নিচে দিয়েছি। কবিতাটির মূলভাব থেকে শুরু করে অনুশীলনীতে থাকা সব প্রশ্নের উত্তর এখানে পেয়ে যাবে। চলো শুরু করা যাক!

'পেটুক দাসের স্বপ্ন' কবিতার মূলভাব

'পেটুক দাসের স্বপ্ন' কবিতাটি গদাইচরণ নামের এক ভোজনরসিক বা পেটুক ছেলেকে নিয়ে লেখা হয়েছে। একদিন বিকেলে পড়তে বসে গদাইচরণ কেবলই নানা রকম সুস্বাদু খাবারের কথা ভাবছিল, কোনোমতেই পড়ার দিকে তার মন বসছিল না।

সে কেবল চিন্তা করছিল যে— সন্দেশ, রসগোল্লা, রাবড়ি, পোলাও ইত্যাদি খেলে তার পেটটা কেমন করে ভরবে। এসব ভাবতে ভাবতে তার চোখে ঘুম চলে আসে এবং ঘুমের ঘোরে সে এমন এক আশ্চর্য রাজ্যে পৌঁছোয়, যেখানে সবকিছুই খাবার দিয়ে তৈরি! সেখানকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি—সবই মিষ্টি আর সুস্বাদু খাবারে ভরা।

এইসব খাবার দেখে গদাইচরণ খুব খুশি হয়ে গেল। সে আনন্দে ক্ষীরের দিঘিতে স্নান করতে নামতেই হঠাৎ কেউ একজন তার কান চেপে ধরে। কান ধরতেই গদাইচরণের ঘুম ভেঙে গেল, সে দেখল কোনো সিপাহি নয়, স্বয়ং মাস্টারমশাই রেগে গিয়ে তার কান ধরে আছেন! পুরো ব্যাপারটাই ছিল তার পড়ার সময়ের ফাঁকিবাজির এক স্বপ্ন।

১. শব্দার্থ (পৃষ্ঠা ৩০)

শব্দ অর্থ
আস্কে একধরনের পিঠে
আবেশ ঘোর বা তন্দ্রার ভাব
ভূমি মাটি বা রাজ্য
ছানি প্রলেপ বা আস্তরণ
খাজা একধরনের মিষ্টি
সুরকি ইটের গুঁড়ো
অবিশ্রান্ত অনবরত বা একটানা

২. কখন, কোন্ প্রসঙ্গে নীচের কথাগুলো গদাইচরণ ভেবেছে? (পৃষ্ঠা ২৯)

(ক) ইচ্ছামতো খাবার খেয়ে ভরতে হবে পেটটা। উত্তর: স্বপ্নে গদাইচরণ যখন দেখল, দই-পায়েসের বিশাল স্রোতে নালা-বিল ভরে গেছে এবং সেখানে ক্ষীরের দিঘিও রয়েছে, তখন সেই ক্ষীরের দিঘিতে স্নান করার আগে পেটভরে ইচ্ছামতো মজার মজার খাবার খাওয়ার প্রসঙ্গে সে কথাটি ভেবেছিল।

(খ) উচিত মতো ভরতে পারে পেটটা তাহার কী খেলে। উত্তর: বিকেলে পড়তে বসে গদাইচরণ পড়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে, ভাবতে লাগলো কী কী সুস্বাদু খাবার (যেমন- সন্দেশ, রসগোল্লা, রাবড়ি, লুচি ইত্যাদি) খেলে তার পেটটা ভালোভাবে ভরতে পারবে—এই প্রসঙ্গের কথা ভাবতে গিয়ে গদাইচরণ কথাটি ভেবেছিল।

৩. উত্তর লেখো: (পৃষ্ঠা ৩০)

প্রশ্ন (ক) কী ভাবতে গিয়ে গদাইচরণের তন্দ্রা এল? উত্তর: বিকেলে পড়তে বসে গদাইচরণ ভাবতে লাগলো কী কী খাবার খেলে তার পেটটা ভালোভাবে ভরবে—সন্দেশ, রসগোল্লা, মুড়কি, গজা নাকি রাবড়ি, পায়েস, পোলাও, লুচি। মজাদার খাবারের মধ্যে কী কী খাবার খেলে তার পেট ভালোভাবে ভরবে, সেই কথা ভাবতে ভাবতেই গদাইচরণের তন্দ্রা এল।

প্রশ্ন (খ) স্বপ্নে সে কোন রাজ্যে গিয়ে পৌঁছোলো? উত্তর: স্বপ্নে গদাইচরণ এমন এক অদ্ভুত নতুন রাজ্যে গিয়ে পৌঁছোলো, যেখানে সবকিছুই শুধু নানারকম সুস্বাদু খাবার দিয়ে তৈরি।

প্রশ্ন (গ) সেখানকার রাস্তা-ঘাট এবং ঘর-দুয়ার কীসের তৈরি? উত্তর: গদাইচরণ স্বপ্নে যে আশ্চর্য নতুন রাজ্যে পৌঁছালো, সেই রাজ্যের রাস্তা-ঘাট মোহনভোগ দিয়ে তৈরি। ঘর-দুয়ার ইটের বদলে বরফি এবং সুরকির বদলে মিহিদানা দিয়ে তৈরি। এছাড়া ঘাটের সিঁড়িগুলো সন্দেশ দিয়ে বাঁধানো ছিলো।

প্রশ্ন (ঘ) চোখ খুলে সে কী দেখতে পেল? উত্তর: চোখ খুলে গদাইচরণ দেখতে পেল যে কোনো সিপাহি নয়, স্বয়ং মাস্টারমশাই চোখ রাঙিয়ে তার কান ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।

৪. কবিতাটিতে যে-যে খাদ্যবস্তুর নামের উল্লেখ আছে সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করো। (পৃষ্ঠা ৩০)

উত্তর: কবিতাটিতে অনেকগুলো মজাদার খাবারের নাম রয়েছে, যেমন— সন্দেশ, রসগোল্লা, মুড়কি, গজা, কচুরি, রাবড়ি, পায়েস, পোলাও, লুচি, মোহনভোগ, খাজা, বোঁদে, বরফি, মিহিদানা, চন্দ্রপুলি, আস্কে পিঠে, পাটি-সাপ্টা, দুধ, সরবত, ক্ষীর, পানতোয়া এবং দই।

৫. শূন্যস্থান পূর্ণ করো: (পৃষ্ঠা ৩০)

অসম্পূর্ণ লাইন সঠিক শব্দ বসিয়ে সম্পূর্ণ লাইন
গাছে গাছে চন্দ্রপুলি, ........, পাটি-সাপ্টা— গাছে গাছে চন্দ্রপুলি, আস্কে, পাটি-সাপ্টা—
পড়ছে ঝরে যেমনি জোরে লাগছে ঝড়ের ........। পড়ছে ঝরে যেমনি জোরে লাগছে ঝড়ের ঝাপ্টা।
সন্দেশেতে ........—দুধের নদী বয় রে— সন্দেশেতে ঘাট বাঁধানো—দুধের নদী বয় রে—
........ ঝরনা ঝরে—আর কোথা কি হয় রে। সরবতেরি ঝরনা ঝরে—আর কোথা কি হয় রে।

৬. 'ছানি' ও 'ঘাট' শব্দ দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বুঝিয়ে তিনটি করে বাক্য রচনা করো: (পৃষ্ঠা ৩১)

শব্দ অর্থ বা প্রসঙ্গ বাক্য রচনা
ছানি চোখের রোগ বোঝাতে বয়সের কারণে দাদুর চোখে ছানি পড়েছে, তাই তিনি ভালো দেখতে পান না।
প্রলেপ বা আস্তরণ বোঝাতে পুরানো মাটির ঘরটিতে নতুন করে রঙের ছানি দেওয়া হয়েছে।
পুনর্বিচার বা আপিল বোঝাতে উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে ছানি মামলা করা হয়েছে।
ঘাট নদীর পাড় বা সিঁড়ি বোঝাতে গ্রামের লোকেরা নদীর ঘাটে স্নান করতে যায়।
দোষ বা অপরাধ স্বীকার বোঝাতে আমি আমার ঘাট মানছি, আর কখনো এমন ভুল কাজ করব না।
জায়গায় জায়গায় বা পথে পথে বোঝাতে চাকরির খোঁজে গরিব লোকটি ঘাটে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

৭. দলে আলোচনা করে শব্দগুলোর পার্থক্য বুঝে বাক্য রচনা করো: (পৃষ্ঠা ৩২)

  • পদ্য (কবিতা): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিশুদের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর পদ্য লিখেছেন।
  • পদ্ম (ফুল): বর্ষাকালে আমাদের গ্রামের পুকুরে লাল পদ্ম ফুল ফোটে।
  • ভজন (দেবতার আরাধনা বা গান): মন্দিরে সবাই মিলে ঠাকুরের ভজন গাইছেন।
  • ভোজন (খাওয়া): বিয়েবাড়িতে আজ আমাদের দারুণ ভোজন হয়েছে।

৮. নৌকোয় থাকা অব্যয় পদগুলো থেকে উপযুক্ত পদ খুঁজে বের করে নীচের বাক্যগুলো সম্পূর্ণ করো: (পৃষ্ঠা ৩২)

(নৌকোয় থাকা পদগুলো: এবং, ও, কিন্তু, তাই, কেন, কী, অথবা, কিংবা)

প্রশ্ন নং উপযুক্ত অব্যয় পদ বসিয়ে সম্পূর্ণ বাক্য
(ক) রমলা ও রহিমলা দুই বান্ধবী।
(খ) বিদ্যাই পরম ধন, তাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে।
(গ) একটি ঘর অথবা চেয়ারের ছবি আঁকো।
(ঘ) মেয়েটি দেখতে সুন্দরী কিন্তু বিদ্যাহীন।
(ঙ) আমি আজ খেলতে যাব না; কেন কাল আমার পরীক্ষা হবে।

৯. জ্ঞান-সম্প্রসারণ: এসো, দলে আলোচনা করে লিখি (পৃষ্ঠা ৩৩)

(ক) তোমাদের ঘরে উৎসব পার্বণে কী কী খাবার জিনিস তৈরি করা হয়?

উত্তর: আমাদের ঘরে উৎসব পার্বণে পায়েস, নানা রকমের পিঠে (যেমন- পাটিসাপটা, পুলি পিঠে, মালপোয়া), লুচি, মিষ্টি, পোলাও এবং মাংস তৈরি করা হয়। (তোমরা চাইলে এখানে আরও অনেক খাবার জিনিসের নাম লিখতে পারো)

(খ) কবিতায় যে খাবার জিনিসের নাম আছে সেগুলো ছাড়া তোমরা আর কী কী খাবার জিনিসের নাম জানো?

উত্তর: কবিতায় উল্লেখিত খাবারগুলো ছাড়া আমরা আরও অনেক খাবারের নাম জানি। যেমন— বিরিয়ানি, চাউমিন, ফুচকা, সিঙাড়া, জিলাপি, আইসক্রিম, কেক, মিষ্টি দই ইত্যাদি।

আশা করি, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ ৪ ‘পেটুক দাসের স্বপ্ন’-এর প্রশ্ন উত্তর, শব্দার্থ ও ব্যাকরণের এই নোটসগুলো তোমাদের পড়াশোনায় কাজে লাগবে। কোনো প্রশ্ন বুঝতে সমস্যা হলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারো।

শেয়ার করুন:

মন্তব্যসমূহ