আমাদের চারপাশের প্রকৃতি সাধারণত সুন্দর ও শান্ত থাকে। কিন্তু কখনো কখনো তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। যখন কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা হঠাৎ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশ, বাড়িঘর ও জীবনের বিরাট ক্ষতি সাধন করে, তখন সেটিকে আমরা দুর্যোগ বলি। পঞ্চম শ্রেণির পরিবেশ বিষয়ের ‘পাঠ ৮: দুর্যোগ ও আমরা’ অধ্যায়ে আমরা এই বিষয়ের প্রশ্নোত্তর এবং পাঠের সারমর্ম সহজ ভাষায় জানতে পারব।
Chapter 8 'দুর্যোগ ও আমরা’ : সারমর্ম সহজ ভাষায়
আমাদের রাজ্যে বন্যা, ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের মতো দুর্যোগ দেখা দেয়। দুর্যোগ মূলত দুই প্রকারের হয়—প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। ভূমিকম্প, বন্যা, ভূমিধস, খরা ও দাবানল ইত্যাদি হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
অন্যদিকে, মানুষের অসাবধানতা বা ভুলের কারণে যে দুর্যোগ ঘটে, সেগুলোকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। যেমন—শহরের নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে কৃত্রিম বন্যা হওয়া বা গাছপালা কেটে ফেলার কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস হওয়া। আমরা বেশি করে গাছপালা লাগিয়ে এবং চারপাশ পরিষ্কার রেখে কিছু দুর্যোগের ক্ষতি অবশ্যই কমাতে পারি।
পাঠ ৮ 'দুর্যোগ ও আমরা' প্রশ্ন উত্তর:
১। উত্তর লেখো—
(ক) প্রাকৃতিকভাবে হওয়া তিনটি দুর্যোগের নাম উল্লেখ করো।
উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে হওয়া তিনটি দুর্যোগের নাম হলো— বন্যা, ভূমিকম্প এবং খরা।
(খ) কৃত্রিম বন্যায় কি ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে?
উত্তর: কৃত্রিম বন্যার ফলে শহরের নালা-নর্দমা দিয়ে বৃষ্টির জল ঠিকমতো বের হতে পারে না। এর ফলে এক পশলা বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট, বাড়িঘর এবং নিচু অঞ্চলগুলো জলে ডুবে যায়।
(গ) দাবানলের সৃষ্টি কীভাবে হয়?
উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাত হয়ে বনাঞ্চলের ঘন জঙ্গলের গাছে পড়লে আগুন লেগে যায়। এছাড়া তীব্র গরমে শুকনো জঙ্গলের শুকনো ডালে বা পাতায় ঘষা লেগেও আগুন ধরে দাবানলের সৃষ্টি হতে পারে।
(ঘ) ভূমিস্খলন হওয়ার কারণগুলো লেখো।
উত্তর: ভূমিস্খলন হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো— অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, তীব্র ঝড়ো বাতাস, অপরিকল্পিতভাবে জঙ্গল কেটে ফেলা এবং পাহাড়ের মাটি কেটে গর্ত বা খননকার্য চালানো।
২। ‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ অংশে মেলাও—
| ‘ক’ অংশ | ‘খ’ অংশ (সঠিক উত্তর পাশে দেওয়া হয়েছে) |
|---|---|
| (ক) ভূমিস্খলন | বিস্তৃতভাবে মাটি, বালি, পাথর ইত্যাদি খসে পড়ে। |
| (খ) খরা | জলাশয়গুলো শুকিয়ে যায়। |
| (গ) দাবানল | জঙ্গলে লাগা আগুন। |
| (ঘ) ভূমিকম্প | পৃথিবীর উপরিভাগ হঠাৎ কেঁপে ওঠে। |
| (ঙ) বন্যা | জলাশয়গুলো থেকে জল উপচে পড়ে। |
৩। নীচে দেওয়া দুর্যোগগুলোর বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো।
(ক) খরা:
খরা হলো এক প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অনেক দিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাটি শুকিয়ে তাতে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। জলের অভাবে কৃষকরা কৃষি কাজ করতে পারেন না, ফলে দেশে খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। একপর্যায়ে দেশে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
(খ) ভূমিস্খলন:
পাহাড়ের ঢালু জায়গা বা নদীর পাড় থেকে যখন মাটি, পাথর ও বালি অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে হঠাৎ নিচে ধসে পড়ে, তখন তাকে আমরা ভূমিস্খলন (বা ভূমিধস) বলি। এর ফলে অনেক সময় বড় ধরনের মানুষের প্রাণহানি ঘটে, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায় এবং ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে।
(গ) ভূমিকম্প:
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কোনো খবর ছাড়াই হঠাৎ করে আসে। পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ কোনো কারণে প্রবল কম্পনের সৃষ্টি হয়ে যখন ওপরের অংশ কেঁপে ওঠে, তখন সেটিকে আমরা ভূমিকম্প বলি। এর জোর বেশি হলে ঘরবাড়ি ভেঙে যায়, অনেক প্রাণহানি হয় এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
৪। পার্থক্য লেখো—
(ক) খরা ও বন্যা:
| খরা | বন্যা |
|---|---|
|
১. দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে খরা দেখা দেয়।
২. মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং বড় বড় ফাটল ধরে।
৩. জলের অভাবে গাছপালা শুকিয়ে যায় ও কৃষিকাজ বাধা পায়।
৪. তীব্র জলসঙ্কট এবং খাদ্যের অভাব বা দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়।
|
১. অতিরিক্ত বা অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে নদীর জল বেড়ে বন্যা হয়।
২. চারপাশের জনবসতি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি জলের নিচে তলিয়ে যায়।
৩. মানুষ ও গবাদিপশু আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়ায়।
৪. যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
|
(খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
| প্রাকৃতিক দুর্যোগ | মানবসৃষ্ট দুর্যোগ |
|---|---|
|
১. প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে বা ভূ-গর্ভস্থ পরিবর্তনের ফলে ঘটে।
২. এই দুর্যোগগুলোর ওপর মানুষের সরাসরি কোনো হাত বা নিয়ন্ত্রণ নেই।
৩. যেমন— ভূমিকম্প, বন্যা, খরা ও ভূমিস্খলন।
৪. এগুলোর বেশিরভাগেরই কোনো সঠিক পূর্বঘোষণা পাওয়া যায় না।
|
১. মানুষের অজ্ঞতা, ভুল কাজ ও অসাবধানতার কারণে ঘটে।
২. মানুষ সচেতন হলে এই দুর্যোগগুলো খুব সহজেই কমানো যায়।
৩. যেমন— কৃত্রিম বন্যা, কারখানার বিস্ফোরণ ও অনেক সময় দাবানল।
৪. এগুলো সাধারণত মানুষের আগের ভুলের ফল হিসেবে হঠাৎ ঘটে।
|
৫। শূন্যস্থান পূরণ করো—
| নং | প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
|---|---|---|
| (ক) | ১৯৫০ সনে অসমে বড়ো _________ হয়েছিল। | ভূমিকম্প |
| (খ) | বনানীকরণের মাধ্যমে _________ রোধ করতে পারি। | ভূমিস্খলন |
| (গ) | বজ্রপাত হয়ে প্রাকৃতিকভাবে জঙ্গলে _________ লাগে। | আগুন |
| (ঘ) | বাঘজান তৈলক্ষেত্রের বিস্ফোরণ একটি _________ দুর্ঘটনা। | ঔদ্যোগিক (বা মানবসৃষ্ট) |
৬। দুর্যোগ বলতে কি বোঝো?
উত্তর: যে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা হঠাৎ করে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশ, বাড়িঘর ও জীবনের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে, সেটিকে দুর্যোগ বলা হয়। এর ফলে মানুষ, পশুপাখি এবং অন্যান্য প্রাণীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আরও কিছু পাঠ:
আগের পাঠ: পাঠ ৭ অসমের সংস্কৃতি
পরের পাঠ: পাঠ ৯ পরিবেশ প্রদূষণ
আমরা একটু সচেতন হলে মানবসৃষ্ট দুর্যোগগুলোকে অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। যেমন— নালা-নর্দমা পরিষ্কার করে রাখলে যে কৃত্রিম বন্যা বা জলাবদ্ধতা হয়, সেগুলো আর হবে না। তাই আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তোমারা আজ পাঠ ৮ "দুর্যোগ আমরা" প্রশ্ন উত্তর গুলো মন দিয়ে পড়ে নিবে, আগামীকাল পাঠ ৯ এর প্রশ্নোত্তরও পেয়ে যাবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন