পঞ্চম শ্রেণি পরিবেশ পাঠ ৪ জীবন ধারণের প্রণালী প্রশ্ন ও উত্তর | Class 5 Environment Chapter 4 in Bengali
মানুষ প্রতিদিন যেভাবে জীবন কাটায় এবং বেঁচে থাকার জন্য যে উপায়ে নিজের খাবার, পোশাক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে—সেটিকে জীবনধারণের প্রণালী বলা হয়। পরিবেশ পরিচিতি (Environment) বিষয়ের পঞ্চম শ্রেণির চতুর্থ পাঠ 'জীবনধারণের প্রণালী'-এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারব, সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রার কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে।
পাঠ-৪ "জীবন ধারণের প্রণালী" মূলভাব:
আদিমকালের মানুষ বন-জঙ্গলে ঘুরে ফলমূল সংগ্রহ করত এবং পশু শিকার করে কাঁচা মাংস খেত। পরবর্তীতে মানুষ পাথরের সংঘর্ষে আগুন জ্বালাতে শেখে, চাকা আবিষ্কার করে এবং নদীর তীরে মাটি চাষ করে ফসল ফলাতেও শুরু করে। চাষবাস শুরু করার পর মানুষ এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে। তখন তারা জিনিসপত্র অদল-বদল অর্থাৎ 'বিনিময় প্রথা'-র মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাত।
বর্তমান যুগে মানুষ নিজের সুবিধা এবং পরিবেশ অনুযায়ী নানারকম কাজ করে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস, পশুপালন, মাছ ধরা এবং কুটির শিল্পের কাজ করে জীবনধারণ করে। অন্যদিকে, শহরের মানুষ অফিস-আদালতে চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কলকারখানায় কাজ করে জীবন নির্বাহ করে。
পাঠ-৪ "জীবন ধারণের প্রণালী" প্রশ্ন-উত্তর
১। উত্তর লেখো —
(ক) গ্রামের বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা কী? ওরা কি কি চাষ করে?
উত্তর: গ্রামের বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা হলো কৃষিকাজ। গ্রামের মানুষেরা ধান, পাট, গম, ডাল, সরিষা এবং নানা রকমের শাকসবজির চাষ করেন।
(খ) চর অঞ্চলের লোকেরা কি কি চাষ করে?
উত্তর: নদীর চর অঞ্চলের মাটি খুব পলিযুক্ত ও উর্বর হয়। তাই চর অঞ্চলের লোকেরা সাধারণত নানা রকম রবিশস্য বা শীতকালীন ফসলের চাষ করেন। যেমন—সরিষা, ডাল, আলু, লাউ, কুমড়ো ইত্যাদি।
(গ) জুম চাষ কাকে বলে? এই কৃষি পদ্ধতিতে কি কি চাষ করা হয়?
উত্তর: পাহাড়ের ঢালু জমিতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে যে বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করা হয়, তাকে জুম চাষ বলে। এই কৃষি পদ্ধতিতে প্রধানত ধান, ভুট্টা, আদা, হলুদ, তিল এবং বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করা হয়।
(ঘ) নদীর চর অঞ্চলের লোকেরা কীভাবে জীবন নির্বাহ করে?
উত্তর: নদীর চর অঞ্চলের লোকেরা মূলত কৃষিকাজ ও মাছ ধরে নিজেদের জীবন নির্বাহ করেন। সেখানকার উর্বর পলিতে তাঁরা প্রচুর রবিশস্য ফলান। এছাড়াও অনেকে পশু পালন এবং দিনমজুরের কাজ করে জীবন নির্বাহ করেন।
(ঙ) চা-বাগানের শ্রমিকগণ কি কি কাজের সঙ্গে জড়িত?
উত্তর: চা-বাগানের শ্রমিকগণ প্রধানত বাগানের চা-গাছগুলো যত্ন করে বড় করা এবং চা-পাতা তোলার কাজের সঙ্গে জড়িত থাকেন। এছাড়াও তাঁরা বাগানের আগাছা পরিষ্কার করা, সার দেওয়া, চা-পাতা কারখানায় নিয়ে যাওয়া এবং কারখানায় অন্যান্য বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেন। এরা চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবন নির্বাহ করে।
২। ‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ অংশ মেলাও —
| ‘ক’ অংশ | ‘খ’ অংশ (সঠিক মিল) |
|---|---|
| প্রাকৃতিকভাবে অসম একটি | সমৃদ্ধ রাজ্য। |
| অসমের সমতল ও পাহাড় দুটি অঞ্চলেই | চা-বাগান দেখা যায়। |
| আদিম মানুষ | যাযাবর জীবন যাপন করতো। |
| চর অঞ্চলে বসবাসকারী লোকেরা সাধারণত | রবি শস্য চাষ করে। |
৩। শূন্যস্থান পূরণ করো —
| শূন্যস্থান প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| (ক) খরা মরশুমে পাহাড়ি অঞ্চলে ________ অভাব হয়। | জলের |
| (খ) পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়া বাকি অঞ্চলগুলো সাধারণত ________ ভূমি। | সমতল |
| (গ) পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষরা সাধারণত ________ করে। | জুম চাষ |
| (ঘ) অসমের পাহাড়, সমতল দুটো স্থানেই ________ দেখা যায়। | চা-বাগান |
| (ঙ) ________ মানুষেরা কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত। | গ্রামের |
৪। নীচের বাক্যগুলো শুদ্ধ না অশুদ্ধ লেখো—
(ক) প্রাচীন কালে মানুষ স্থায়ীভাবে ঘর-বাড়ি বানিয়ে উন্নত জীবনযাপন করতো।
উত্তর: অশুদ্ধ
(খ) উদ্যোগ, চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদি নগর অঞ্চলের লোকের জীবিকা নির্বাহের মূল উপায়।
উত্তর: শুদ্ধ
(গ) শহর অঞ্চল থেকে গ্রাম অঞ্চলে যানবাহনের সংখ্যা কম।
উত্তর: শুদ্ধ
(ঘ) কৃষিকাজ ছাড়াও গ্রাম অঞ্চলের কিছু মানুষ চাকরিজীবি হিসাবে জীবিকা নির্বাহ করে।
উত্তর: শুদ্ধ
(ঙ) চর অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষরা সাধারণত রবি শস্যের চাষ করে।
উত্তর: শুদ্ধ
৫। আগুনের আবিষ্কার কীভাবে হয়েছিল?
উত্তর: আদিম মানুষ জঙ্গলে পাথরে-পাথরে ঘর্ষণ লেগে আগুন জ্বলতে দেখেছিল। এরপর তারা নিজেরাও দুটো শুকনো পাথরে জোরে ঘষা দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করে। এই পাথরে পাথর ঘষেই একসময় তারা আগুন জ্বালাতে সফল হয়। এভাবেই আগুনের আবিষ্কার হয়েছিল।
৬। আদিম কালে মানুষ কি কি কার্যে পাথরের সরঞ্জাম ব্যবহার করতো?
উত্তর: আদিম কালে মানুষের কাছে লোহা বা অন্য কোনো ধাতুর জিনিস ছিল না। তাই তারা পশুপাখি শিকার করতে, পশুর চামড়া ছাড়াতে এবং মাংস কাটতে ধারালো পাথরের সরঞ্জাম ব্যবহার করত। এছাড়াও আদিম কালের মানুষ খাদ্যবস্তু কাটা বা গুঁড়ো করার কাজে পাথরের সরঞ্জাম ব্যবহার করত।
৭। পার্থক্য লেখো— (ক) গ্রাম ও শহর (খ) সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চল
(ক) গ্রাম ও শহরের পার্থক্য:
| গ্রাম | শহর |
|---|---|
| ১. গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজ বা চাষবাস করে। | ১. শহরের বেশিরভাগ মানুষ চাকরি, ব্যবসা বা কারখানায় কাজ করে। |
| ২. গ্রামের জনবসতি কম এবং বাড়িঘর পাতলা হয়। | ২. শহরের জনবসতি কম এবং বাড়িঘর খুব ঘন।। |
| ৩. গ্রামে রাস্তাঘাট সাধারণত কাঁচা বা সরু হয় এবং যানবাহন কম থাকে। | ৩. শহরে বড় বড় পাকা রাস্তা থাকে এবং অনেক বেশি যানবাহন চলে। |
| ৪. গ্রামে বড় হাসপাতাল বা স্কুল-কলেজের সুবিধা একটু কম থাকে। | ৪. শহরে বড় বড় হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও উন্নত চিকিৎসার সুবিধা থাকে। |
(খ) সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের পার্থক্য:
| সমতল অঞ্চল | পাহাড়ি অঞ্চল |
|---|---|
| ১. সমতল অঞ্চলের মাটি সমান এবং চাষবাসের জন্য খুব ভালো। | ১. পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি উঁচু-নিচু । |
| ২. সমতল অঞ্চলে গাড়ি বা ট্রেন খুব সহজে চলতে পারে। | ২. পাহাড়ি অঞ্চলে রাস্তা আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু হওয়ায় যাতায়াত করা বেশ কঠিন। |
| ৩. সমতল অঞ্চলে ধান, গম, ডাল ইত্যাদি ফসলের চাষ বেশি হয়। | ৩. পাহাড়ি অঞ্চলে সাধারণত জুম চাষ এবং চা-পাতার চাষ বেশি হয়। |
| ৪. সমতল অঞ্চলে মানুষ সহজে বড় বড় পাকা ঘরবাড়ি বানাতে পারে। | ৪. পাহাড়ি অঞ্চলে মানুষ সাধারণত কাঠ, টিন বা বাঁশের তৈরি ছোট ঘরবাড়ি বানায়। |
সমাপনী মন্তব্য: মানুষ নিজের বুদ্ধি ও পরিশ্রমের সাহায্যে আদিমকালের সেই কষ্টের জীবন থেকে আজকের এই আধুনিক জীবনে পৌঁছাতে পেরেছে। সমাজে কৃষক, তাঁতি, কুমার, ডাক্তার, শিক্ষক—সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়া ও সম্মান করা উচিত এবং সবার মিলেমিশে থাকা উচিত। Class 5 Environment Chapter 4 "জীবন ধারণের প্রণালী" Question Answers গুলো বুঝতে কোনো অসুবিধা হলে নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদেরকে জানাতে পারেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন