পাঠ ১৩ : "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং অসম" সংক্ষেপে মূলভাব :-
আমাদের দেশ অনেক আগে ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। ব্রিটিশদের হাত থেকে আমাদের দেশকে রক্ষা করার জন্য মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু ও সুভাষচন্দ্র বসু সহ আরো অনেক সাহসী বীররা আন্দোলন করেছিলেন।
দেশ স্বাধীন করার এই লড়াইয়ে অসমের অনেক বীরও এই আন্দোলনে সাড়া দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম হলো - মণিরাম দেওয়ান, পিয়লি ফুকন, কুশল কোঁয়র ও কনকলতা। এছাড়াও আরও অনেক অসমীয়া বীর এই লড়াইয়ে নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়েছিলেন।
সবার এই লড়াইয়ের ফলে অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ব্রিটিশরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। এরপর এই স্বাধীন দেশকে চালানোর জন্য কিছু নিয়ম-কানুন বা আইন তৈরী করা হয়, যাকে দেশের ‘সংবিধান’ বলা হয়। ড° রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং ড° ভীমরাও আম্বেদকরের মতো বড় বড় নেতাদের চেষ্টায় ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি এই সংবিধান চালু করা হয়।
অনুশীলনী (পৃষ্ঠা ১০৬) এর প্রশ্ন ও উত্তর:
১। উত্তর লেখো —
(ক) কখন ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে?
উত্তর: ভারত ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
(খ) ভারতীয় নাগরিকদের কয়টি মৌলিক কর্তব্য আছে?
উত্তর: আমাদের দেশের নাগরিকদের জন্য মোট ১১টি মৌলিক কর্তব্য আছে।
(গ) সংবিধান সভার সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: সংবিধান সভার সভাপতি ছিলেন ড° রাজেন্দ্র প্রসাদ।
(ঘ) সংবিধান খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: সংবিধান খসড়া কমিটির সভাপতি ছিলেন ড° ভীমরাও আম্বেদকার।
(ঙ) ভারতীয় সংবিধানটি কবে গৃহীত হয়েছিল?
উত্তর: ২৬শে নভেম্বর, ১৯৪৯ সালে ভারতীয় সংবিধানটি গৃহীত হয়েছিলো। (১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি তারিখে সংবিধান কার্যকরী হয়েছিল।)
২। শূন্যস্থান পূরণ করো —
| প্রশ্ন (শূন্যস্থানসহ বাক্য) | সঠিক উত্তর |
|---|---|
| (ক) আমরা ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রতি বছর _______ গণতন্ত্র দিবস হিসাবে পালন করি। | ২৬ শে জানুয়ারি |
| (খ) ভারতের সংবিধানটি একটি _______ সংবিধান। | দীর্ঘতম |
| (গ) ভারতবর্ষ একটি সার্বভৌম সমাজবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ _______ গণরাজ্য। | গণতান্ত্রিক |
| (ঘ) প্রত্যেক দেশ বা রাষ্ট্রের একটি _______ সংবিধান আছে। | নিজস্ব |
| (ঙ) ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের _______ ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। | ১৫ই আগস্ট |
৩। মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝো এবং সেগুলো কী কী লেখো।
উত্তর: আমাদের দেশের সংবিধানের মধ্যে আমরা ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা অর্থাৎ অধিকার দেওয়া হয়েছে। যাকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। আমাদের ভারতবর্ষের সংবিধানে মোট ৬টি মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হলো —
| ক্রমিক নং | মৌলিক অধিকারসমূহ |
|---|---|
| ১ | সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার |
| ২ | স্বাধীনতার অধিকার |
| ৩ | সমতার অধিকার |
| ৪ | শিক্ষা এবং সংস্কৃতির অধিকার |
| ৫ | শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অধিকার |
| ৬ | ধর্মীয় অধিকার |
৪। পোস্টার তৈরি করো —
উত্তর: এটি তোমাদের নিজে আঁকার কাজ! তোমরা খাতায় বড় বড় করে "আমরা সবাই ভারতীয়" এবং "অসম আমাদের জন্মভূমি" লিখে সুন্দর করে রং পেন্সিল দিয়ে সাজাতে পারো!
৫। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো (ছোট করে উত্তর) —
(ক) স্বাধীনতা আন্দোলন:
অনেক আগে আমাদের ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য অনেক সাহসী বীররা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের নাম হলো- মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সরোজিনী নাইডু ও আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও অনেক সাহসী বীররা নিজের জীবন দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করার লড়াইয়ে নেমেছিলেন। তাকেই স্বাধীনতা আন্দোলন বলা হয়।
(খ) ভারতের সংবিধান:
ব্রিটিশরা দেশ ত্যাগের পর আমাদের দেশ সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য দেশের কিছু নিয়মকানুন তৈরি করা হয়েছে। এই নিয়ম-কানুনগুলো যে বইটিতে লেখা আছে, তাকেই ভারতের সংবিধান বলা হয়।
(গ) মৌলিক অধিকার:
ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা যাতে সমান সুযোগ-সুবিধা পাই এবং ভালোভাবে বাঁচতে পারি সেই জন্যই আমাদের দেশের সংবিধানে আমাদের কিছু বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে। সেগুলোকে মৌলিক অধিকার বলা হয়।
(ঘ) মৌলিক কর্তব্য:
দেশ যেমন আমাদের অনেক সুযোগ ও অধিকার দেয়, তেমনি দেশের ভালো করার জন্য আমাদেরও কিছু দায়িত্ব বা কাজ পালন করতে হয়। দেশের প্রতি আমাদের এই কাজগুলোকেই মৌলিক কর্তব্য বলে। আমাদের দেশের সংবিধানে মোট ১১ টি মৌলিক কর্তব্য রয়েছে।
শেষের কথা: পঞ্চম শ্রেণির পরিবেশ ১৩ নম্বর পাঠ "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং অসম"-এর প্রশ্ন-উত্তরগুলো তোমাদের পড়াশোনায় অনেক সাহায্য করবে। মনে আরো কোন প্রশ্নের উত্তর জানার ইচ্ছা থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে বলতে পারো।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন