'বড় কে' কবিতাটি কবি হরিশ্চন্দ্র মিত্র লিখেছেন। এই কবিতার মাধ্যমে তিনি সত্যিকারের বড় মানুষ কে এবং কীভাবে বড় হওয়া যায়, সেই কথাগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
সহজ ভাষায় 'বড় কে' কবিতার মূলভাব
যাকে আমরা বড় বলি, সে আসলে বড় নয়। যার মধ্যে রয়েছে ভালো গুণ (যেমন — সততা, দয়া, ভালো ব্যবহার ইত্যাদি), সে আসলে বড় মানুষ।
সত্যিকারের বড় মানুষ হওয়া খুবই কঠিন। এটি অর্জন করার জন্য ভালো গুণের প্রয়োজন। নিজের ভালো কাজকর্মের মাধ্যমে সেই গুণের পরিচয় দিতে হয়।
শেষে কবিতাটিতে কবি বলেছেন যে, ছোট হয়ে বড় হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। অর্থাৎ তুমি যদি জীবনে অনেক বড় হতে চাও, তবে তোমাকে নম্র ও বিনীত হতে হবে। ভালো ব্যবহারের সাথে সাথে কখনো অহংকার করা যাবে না।
বইয়ের সব প্রশ্নের উত্তর
ক) পাঠভিত্তিক প্রশ্ন
১। 'বড় কে' কবিতার কবির নাম কী? উত্তর: কবির নাম হরিশ্চন্দ্র মিত্র।
২। কবির মতে বড়ো কে? উত্তর: যার ভালো গুণ আছে এবং যে ভালো কাজ করে, সে আসলেই বড়ো। শুধু বয়সে বা দেখতে বড়ো হলেই বড়ো হওয়া যায় না।
৩। বড়ো কাদের বলা হয়? উত্তর: যাঁরা ভালো কাজ করেন এবং অন্যের উপকারে আসেন, তাঁদের বড়ো বলা হয়।
৪। কীসে বড়ো হলে সংসারে বড়ো হওয়া যায়? উত্তর: ভালো গুণে বড়ো হলে সংসারে বড়ো হওয়া যায়।
৫। বড়ো হতে গেলে কী করতে হবে? উত্তর: বড়ো হতে গেলে মুখে বড় বড় কথা না বলে, ভালো গুণ অর্জন করতে হবে এবং ভালো কাজ করতে হবে।
৬। প্রশ্ন: কবি কেন সংসারে বড়ো হওয়া কঠিন বলেছেন? উত্তর: ভালো গুণ অর্জন করে মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করতে হয়, তখনই সংসারে বড় হওয়া যায়। শুধু আকারে বা বয়সে বড় হলে কেউ সংসারে বড় হতে পারে না। তাই কবি হরিশ্চন্দ্র মিত্র সংসারে বড় হওয়া অনেক কঠিন বলেছেন।
৭। কবিতার পংক্তিগুলো বুঝিয়ে লেখো:
(ক) “আপনারে বড়ো বলে, বড়ো সেই নয়
লোকে যারে বড়ো বলে, বড়ো সেই হয়।”
উত্তর: নিজে নিজেকে বড়ো মনে করলে বড়ো হওয়া যায় না। বড়ো হতে হলে ভালো গুণ থাকতে হয়। ভালো গুণ যেমন—দয়া, সততা, ভালো ব্যবহার ইত্যাদি। এইসব ভালো কাজ করে মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করলে প্রকৃত বড়ো হওয়া যায়।
(খ) “শুনিতে পাইলে বড়ো, বড়ো বলে সবে
বড়ো যদি হতে চাও, ছোটো হও তবে।”
উত্তর: মুখে নিজের বড়াই না করে, নম্র ও ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করাই হলো আসল বড় হওয়া। অহংকার ছেড়ে সবার সাথে ভালো কাজ করলে সবাই নিজে থেকেই তোমাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসবে।
খ) ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ)
যুক্তবর্ণ ভেঙে লেখো
কবির নামের যুক্তবর্ণগুলো ভেঙে নিচে দেওয়া হলো:
| যুক্তবর্ণ | ভেঙে লেখা (বিশ্লেষণ) |
|---|---|
| শ্চ | শ্ + চ |
| ন্দ্র | ন্ + দ্ + র-ফলা (ন + দ + র) |
| ত্র | ত্ + র-ফলা (ত + র) |
অনুজ্ঞা
"হও" একটি ক্রিয়াপদ যা কবিতাটির মধ্যে আদেশ বা অনুরোধ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কবিতাটিতে রয়েছে— "বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে।"
এখানে "হও" একটি ক্রিয়াপদ। অনুরোধ, আদেশ বা উপদেশ বোঝাতে যে ক্রিয়াপদ ব্যবহার করা হয়, সেটিকে অনুজ্ঞা বলে। এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে ব্যবহার করা হয়।
নিচের শব্দগুলো দিয়ে বাক্য রচনা
| শব্দ | বাক্য রচনা |
|---|---|
| সংসার | সংসারে সবাইকে মিলেমিশে থাকা উচিত। |
| কঠিন | অঙ্কটি আমার কাছে খুবই কঠিন লেগেছে। |
| গুণ | মানুষের ভালো গুণ সমাজের কাজে লাগা উচিত। |
| লোক | তিনি গ্রামের একজন অত্যন্ত সৎ লোক। |
বিপরীতার্থক শব্দ
| মূল শব্দ | বিপরীত শব্দ |
|---|---|
| আপন | পর |
| কঠিন | সহজ |
| গুণ | দোষ |
| ছোটো | বড়ো |
অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলোচনা
আদর্শ ছেলে
কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটিতে একজন আদর্শ ছেলের কথা বলা হয়েছে। সে কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা দেখায়। সে বিপদের সময় পিছিয়ে না গিয়ে, সৎ সাহসের সঙ্গে সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করে।
‘বড়ো কে’ কবিতার মূল শিক্ষা
সমাজের জন্য ভালো কাজ করা এবং ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মানুষ প্রকৃত বড়ো হয়। যারা নিজেকে নিজে বড়ো ভাবে তারা আসলে বড়ো নয়।
আজ পঞ্চম শ্রেণীর ‘বড়ো কে’ কবিতাটির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে, অহংকার না করে ভালো গুণের সাহায্যে ও সততার সাথে মানুষের সম্মান অর্জন করাই প্রকৃত বড়ো হওয়া।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন