সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমাদের উদ্যোগসমূহ: প্রশ্ন উত্তর পাঠ ১০ | Class 5 Environment Chapter 10 | SCERT Assam

Class 5 Environment Chapter 10 Question Answer

আমাদের অনেক জিনিসপত্র যেগুলো দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করি, সেগুলো বিভিন্ন শিল্প উদ্যোগে তৈরি হয়। এই সব জিনিসপত্র তৈরি করতে অনেক কাঁচামাল, শ্রমিক, ভূমি ও মূলধনের প্রয়োজন হয়। পঞ্চম শ্রেণির পরিবেশ বিষয়ের পাঠ ১০ "আমাদের উদ্যোগসমূহ" পাঠটি পড়ে আমরা এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে পারব।

আমাদের উদ্যোগসমূহ (পাঠ ১০) মূলভাব

প্রকৃতি থেকে পাওয়া বিভিন্ন জিনিস বা মানুষের তৈরি জিনিসের সাহায্যে ব্যবহারের উপযোগী নতুন জিনিসে বদলে নেওয়ার জায়গাকে কলকারখানা বা উদ্যোগ বলা হয়। এই উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য প্রচুর শ্রমিক, কাঁচামাল, ভূমি ও মূলধনের দরকার হয়। উদাহরণস্বরূপ আখের থেকে চিনি ও বাঁশ থেকে কাগজ।

আমাদের রাজ্য আসাম চা উৎপাদনে খুবই বিখ্যাত। চা-বাগানের পাতাগুলো মেশিনের সাহায্যে শুকিয়ে উন্নতমানের চা তৈরি করে দেশ-বিদেশে বিক্রি করা হয়। তাছাড়াও, আমাদের রাজ্যে অনেক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। গ্যাস, তেল, রেশম শিল্পের কাপড়, সার ও সিমেন্টের মতো অনেক প্রয়োজনীয় উদ্যোগও আছে।

বইয়ের সব প্রশ্নের উত্তর

১। সংক্ষেপে উত্তর দাও—

(ক) কাঁচামাল বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত যেসব সামগ্রী ব্যবহার করে আমাদের প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে কাঁচামাল বলা হয়।

(খ) উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য কেন উন্নত যাতায়াত ও পরিবহণের প্রয়োজন হয়?
উত্তর: কাঁচামাল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী উদ্যোগে বহন করে আনার জন্য এবং উৎপাদিত সামগ্রী বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার জন্য উন্নত যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।

(গ) উদ্যোগ গড়ে ওঠার জন্য কী কী প্রয়োজন লেখো?
উত্তর: একটি উদ্যোগ গড়ে ওঠার জন্য প্রধানত কাঁচামাল, শ্রমিক, ভূমি, মূলধন, উন্নত যন্ত্রপাতি (মেশিন) এবং যাতায়াত ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।

(ঘ) লোহা ও ইস্পাত উদ্যোগের জন্য কী কী কাঁচামাল প্রয়োজন?
উত্তর: লোহা ও ইস্পাত উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালগুলো হলো— আকরিক লোহা, কয়লা ও চুনাপাথর।

(ঙ) পাটের কাপড় কীভাবে তৈরি করা হয়?
উত্তর: পাট থেকে প্রথমে সুতো তৈরি করা হয়। এরপর সেই সুতো দিয়ে কার্পেট, ব্যাগ, দড়ি বা চট জাতীয় জিনিস ও কাপড় তৈরি করা হয়।

২। শূন্যস্থান পূরণ করো—

ক্রমিক প্রশ্ন (শূন্যস্থান) উত্তর
ক মুম্বাই ভারতের আধুনিক ........................... উদ্যোগের প্রধান কেন্দ্র। বস্ত্র
খ কাগজ উদ্যোগের প্রধান কাঁচামাল হলো ...........................। বাঁশ
গ ভারতের সবচেয়ে বেশি রেশম কাপড় ........................... রাজ্যে উৎপন্ন করা হয়। অসম
ঘ চিনি উদ্যোগের প্রধান কাঁচামাল হলো ...........................। আখ

৩। ‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ অংশ মেলাও—

‘ক’ অংশ ‘খ’ অংশ (সঠিক উত্তর)
(ক) তেল শোধনাগার নুমলিগড়
(খ) গ্যাস প্ল্যান্ট কাঠালগুড়ি
(গ) পাট উদ্যোগ শিলঘাট
(ঘ) সার উদ্যোগ নামরূপ

৪। পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামাল না থাকলেও যেকোনো একটি স্থানে বড়ো উদ্যোগ গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে একটি দেশের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: উদাহরণ হিসেবে জাপানের কথা বলা যায়। জাপানে শিল্প উদ্যোগের জন্য দরকারি কাঁচামালের বেশ অভাব রয়েছে। তা সত্ত্বেও সেখানে বড় বড় উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণ হলো, জাপানের উপকূল অঞ্চলে বহু উন্নত মানের বন্দর আছে। এই বন্দরগুলোর মাধ্যমে জাপান অন্য দেশ থেকে খুব সহজে প্রয়োজনীয় জিনিস অর্থাৎ কাঁচামাল যেগুলোর দরকার, সেগুলো আনতে পারে। এরপর নিজেদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য আবার বিদেশে বিক্রি করতে পারে। এভাবে জাপানে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বেশ অভাব থাকা সত্ত্বেও বড় বড় শিল্প উদ্যোগ গড়ে উঠেছে।

৫। অসমে কেন বেশি পরিমাণে বৃহৎ উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি তার কারণ বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: অসমের উদ্যোগগুলোতে উৎপাদিত সামগ্রী দেশ-বিদেশে বেশি সমাদর পেয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত মূলধন, বৃহৎ স্থানীয় বাজার, দক্ষ শ্রমিক এবং উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার খুবই অভাব থাকার কারণে অসমে আশানুরূপ বৃহৎ উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি।

৬। উদ্যোগ বলতে কী বোঝো? ভারতের চারটি বৃহৎ উদ্যোগের নাম লেখো।

উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত কাঁচামালকে মেশিনের সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করে মানুষের প্রয়োজনীয় নতুন সামগ্রী তৈরি করার জায়গাকে শিল্প উদ্যোগ বলে। ভারতের চারটি বৃহৎ উদ্যোগ হলো:
(ক) চিনি উদ্যোগ
(খ) কাগজ উদ্যোগ
(গ) কার্পাস বস্ত্র উদ্যোগ
(ঘ) লোহা ও ইস্পাত উদ্যোগ

৭। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো—

(ক) চিনি উদ্যোগ: আখ উৎপন্ন হওয়ার জায়গার আশেপাশে চিনি উদ্যোগ গড়ে ওঠে। কারণ কাঁচামাল আশেপাশে থাকলে দ্রুত কারখানায় আনার সুবিধা হয়। ভারতে প্রায় ২০০-র অধিক চিনি উদ্যোগ রয়েছে।

(খ) কাগজ উদ্যোগ: বাঁশ হলো কাগজ উদ্যোগের প্রধান কাঁচামাল। এছাড়া কাঠের মণ্ড, ঘাস, পুরোনো কাপড় ইত্যাদি থেকেও কাগজ তৈরি করা হয়। ভারতের বেশিরভাগ কাগজ উদ্যোগ কলকাতা ও মুম্বাই নগরীর আশেপাশে অবস্থিত।

(গ) কার্পাস বস্ত্র উদ্যোগ: প্রাচীনকাল থেকেই কার্পাস বস্ত্র তৈরিতে ভারতের সুনাম দেশ ও বিদেশে রয়েছে। বর্তমানে কার্পাস বস্ত্র উৎপাদনে ভারত পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে। মুম্বাই ভারতের আধুনিক বস্ত্র উদ্যোগের প্রধান কেন্দ্র।

(ঘ) রেশম উদ্যোগ: রেশম পোকা চাষ করে রেশমি সুতা ও কাপড় তৈরি করার ব্যবসাকে রেশম শিল্প উদ্যোগ বলা হয়। পোকার দেহ থেকে নিঃসৃত লালা থেকে রেশম সুতো তৈরি করার পদ্ধতি খুবই জটিল, যার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়।

(ঙ) লোহা ও ইস্পাত উদ্যোগ: এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ। এর জন্য কাঁচামাল হিসেবে আকরিক লোহা, কয়লা ও চুনাপাথরের প্রয়োজন হয়। বেশি ওজন ও আয়তনের কাঁচামাল লাগায় এই উদ্যোগগুলো সাধারণত লোহার খনির আশেপাশেই গড়ে উঠেছে।

সর্বশেষে 

আমাদের প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী বা জিনিস বিভিন্ন শিল্প উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রশ্নোত্তরগুলো পড়ে Class 5 EVS Chapter 10 ‘আমাদের উদ্যোগসমূহ’ পাঠটি বুঝতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।

শেয়ার করুন:

মন্তব্যসমূহ