সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পঞ্চম শ্রেণি পরিবেশ পাঠ ৩ আবহাওয়া প্রশ্ন ও উত্তর। SCERT Assam Class 5 Environment Chapter 3 in Bengali

Class 5 Environment Chapter 3 আবহাওয়া প্রশ্ন উত্তর SCERT Assam

আমরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাই যে কখনো ঝলমলে রোদ উঠেছে, আবার কখনো আকাশে কালো মেঘ জমেছে বা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কোনো কোনো দিন আমাদের খুব গরম লাগে, আবার কোনো দিনে খুব ঠান্ডা লাগে—তখন শীতের কাপড় পরিধান করার প্রয়োজন হয়। প্রতিদিনের এই অবস্থার পরিবর্তনকে আবহাওয়া বলে। Class 5 Environment Chapter 3 "আবহাওয়া" এর মাধ্যমে আমরা আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিভিন্ন ঋতু এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে জানবো।

"আবহাওয়া" পাঠ ৩: সহজ ভাষায় মূলভাব

আমাদের চারপাশে যে বায়ুর একটি আবরণ রয়েছে, সেটিকে বায়ুমণ্ডল বলে। এই বায়ুমণ্ডলের অবস্থা সবসময় পরিবর্তন হয়—কখনো রোদ ওঠে, কখনো বৃষ্টি হয়, আবার কখনো বাতাস বা ঘূর্ণিঝড় হয়। বায়ুমণ্ডলের এই অবস্থার পরিবর্তনকে আবহাওয়া বলা হয়।

বিজ্ঞানীরা থার্মোমিটার, রেইনগেজ এবং বায়ুমোজা-র মতো বিভিন্ন যন্ত্র এবং মহাকাশে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে আবহাওয়ার খবর বা তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর এই তথ্য আগে থেকেই রেডিও, টেলিভিশন বা খবরের কাগজে জানিয়ে দেওয়া হয়। আবহাওয়া সম্পর্কে এমন আগাম খবর দেওয়াকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলা হয়।

এই আবহাওয়ার পূর্বাভাস আমাদের আগে থেকেই বন্যা বা ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সতর্ক হতে সাহায্য করে।

পাঠে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর

১। উত্তর লেখো —

(ক) আবহাওয়া বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বিভিন্ন সময়ে আমাদের বায়ুমণ্ডলের অবস্থার পরিবর্তন হয়। যেমন—কখনো গরম বা ঠান্ডা লাগে, আবার কখনো রোদ হয়, বৃষ্টি হয় বা ঝড়-তুফান দেখা দেয়। বায়ুমণ্ডলের এই প্রতিদিনের অবস্থার পরিবর্তনকে আবহাওয়া বলে।

(খ) ঋতু কয়টি ও কী কী?
উত্তর: ঋতু ছয়টি। সেগুলি হলো—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।

(গ) আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আগামী দিনে আবহাওয়া কেমন থাকবে (যেমন—রোদ হবে নাকি ঝড়-বৃষ্টি হবে), সেই বিষয়ে আগে থেকেই জনসাধারণকে খবর জানিয়ে দেওয়াকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে।

(ঘ) আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহকারী তিনটি যন্ত্রের নাম লেখো।
উত্তর: তিনটি আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্রের নাম হলো—
i) থার্মোমিটার (তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র)।
ii) রেইনগজ (বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র)।
iii) এ্যানিমোমিটার (বাতাসের গতিবেগ মাপার যন্ত্র)।

(ঙ) কোন সরকারি বিভাগ সমস্ত দেশের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রস্তুত ও প্রচার করে?
উত্তর: ভারত সরকারের ‘আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগ’ (India Meteorological Department) সমস্ত দেশের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রস্তুত ও প্রচার করে।

২। ‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ অংশ মেলাও —

‘ক’ অংশ ‘খ’ অংশ (সঠিক মিল)
১. বায়ুর উষ্ণতা থার্মোমিটার
২. বায়ুতে থাকা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ হাইগ্রোমিটার
৩. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেইনগজ
৪. বায়ুর গতিবেগ  এ্যানিমোমিটার

৩। শূন্যস্থান পূরণ করো — (খ) বাতাসের দিক নির্ণয়ে ________ নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।\tদিক-নির্ণয়

শূন্যস্থান প্রশ্ন উত্তর
(ক) গরম দিনে পাতলা সুতির কাপড় পরিধান খুবই ________। আরামদায়ক
(খ) বাতাসের দিক নির্ণয়ে ________ নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। দিক-নির্ণয়
(গ) ________ বাতাসের গতিবেগ এবং দিক নির্ণয় জানতে ব্যবহার করা হয়। বায়ুমোজা
(ঘ) ঝড় এলে আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় ও ________ হয়। মেঘগর্জন

৪। আবহাওয়ার পূর্বাভাস কী কী মাধ্যমের সাহায্যে দেওয়া হয়?

উত্তর: রেডিও, টেলিভিশন (দূরদর্শন), খবরের কাগজ, ইন্টারনেট সংযুক্ত কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

৫। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো —

(ক) রেইনগজ: যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো জায়গায় কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে তা মাপা যায়, সেটিকে রেইনগেজ বলা হয়। এই যন্ত্রটি একদম খোলা জায়গায় রাখা হয়। এর ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি এই যন্ত্রটির মধ্যে জমা হয় এবং বৃষ্টির সঠিক পরিমাণটি মাপা যায়।

(খ) আবহাওয়া বিজ্ঞান কেন্দ্র: যে কেন্দ্রে আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেগুলোকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা হয়, সেই কেন্দ্রটিকে আবহাওয়া বিজ্ঞান কেন্দ্র বলে। 

এখানে বিজ্ঞানীরা থার্মোমিটার, রেইনগেজ এবং কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। এরপর আগামী দিনে কোথায় ঝড়, বৃষ্টি বা গরম হবে, তার পূর্বাভাস তৈরি করে সেটি রেডিও, টেলিভিশন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে দেন।

(গ) শুকনো আবহাওয়া (খরা আবহাওয়া): কখনো অনেক দিন ধরে বৃষ্টিপাত হয় না। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাতের অভাবে ফসলের মাঠের মাটিতে বড় বড় ফাটল ধরে, জলের অভাবে গাছপালা শুকিয়ে যায় এবং মানুষ ও পশুপাখির খুবই কষ্ট হয়। এই ধরনের অবস্থাকে শুকনো আবহাওয়া বা খরা আবহাওয়া বলে।

(ঘ) পরিষ্কার আবহাওয়া: যখন আকাশ পরিষ্কার থাকে, ঝলমলে রোদ থাকে এবং কোনো কালো মেঘ দেখা যায় না, তখন সেই অবস্থাকে পরিষ্কার আবহাওয়া বলা হয়। এদিন ঝড় বা বৃষ্টির ভয় থাকে না বলে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে কোনো অসুবিধা হয় না।

৬। আবহাওয়া অনুযায়ী আমাদের সাজ-পোশাক কোন ধরনের হওয়া উচিত লেখো।

উত্তর: আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে শরীরকে সুস্থ ও ভালো রাখতে আমাদের সাজপোশাক পরিবর্তন করা উচিত। গরমের দিনে পাতলা সুতির কাপড় পরিধান করা উচিত, কারণ সুতির কাপড়ে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে এবং এর মধ্য দিয়ে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। 

অন্যদিকে, শীতকালে শীতের পোশাক পরিধান করা উচিত (যেমন: সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার) এবং রাতে লেপ বা কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমানো উচিত।

৭। কী কী কাজে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সাহায্য করে?

উত্তর: আবহাওয়ার পূর্বাভাস আমাদের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে।
i) কৃষিকাজে: চাষিরা বৃষ্টির খবর আগে থেকে জানতে পারলে তারা সঠিক সময়ে বীজ বোনা ও পাকা ফসল কাটার কাজ করতে পারে।
ii) যাতায়াত ও মাছ ধরায়: সমুদ্রের নাবিক, মৎস্যজীবী, বিমানচালক এবং পাহাড়ে ওঠা মানুষেরা ঝড়-বৃষ্টির খবর আগে থেকে জানতে পারলে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।
iii) দুর্যোগ মোকাবিলায়: বন্যা বা বড় কোনো ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস আগে থেকে সাধারণ মানুষ জানতে পারলে, তারা সঠিক সময়ে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে পারবে।

৮। আবহাওয়ার উপাদানগুলোর নাম কী কী?

উত্তর: আবহাওয়ার প্রধান উপাদানগুলোর নাম হলো—বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ, বাতাসের গতিবেগ ও দিক, মেঘের উপস্থিতি, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ।

শেষের কথা: পঞ্চম শ্রেণীর এই পাঠে (পাঠ-৩: 'আবহাওয়া') আমরা জানলাম যে, আবহাওয়া কীভাবে আমাদের প্রতিদিনের জীবন, কাজকর্ম এবং সাজপোশাককে প্রভাবিত করে। আজকাল মানুষ বেশি গাছপালা কেটে ফেলার কারণে আবহাওয়ার স্বাভাবিক নিয়মটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের সবার বেশি করে গাছ লাগানো এবং প্রকৃতির যত্ন নেওয়া উচিত।

শেয়ার করুন:

মন্তব্যসমূহ